Published : Saturday, 10 October, 2026 at 12:45 PM
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, ছবিঃ সংগৃহীত
সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এমন বাংলাদেশে সবার একটাই পরিচয় হবে- বাংলাদেশি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বনানী মাঠে ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
এদিন সকালে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সমান নিরাপত্তা, সমান স্বাধীনতা এবং সমান মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং মাহদী আমিনকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। পরে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা।
অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা। সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে, আর তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।’
পূজামণ্ডপে বরাদ্দ বৃদ্ধি, বেড়েছে সরকারি ছুটি
দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই উৎসবের আনন্দ সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে একইভাবে ছড়িয়ে পড়ুক- এটাই তাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক দৃঢ় বন্ধন। নিজেদের মধ্যকার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।’
‘সবার আগে বাংলাদেশ’- ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আহ্বান
বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের অন্তরের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের চালিকাশক্তি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সার্বিক জনকল্যাণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আর সে কারণেই সরকারের অবস্থান- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন।
তিনি আরও বলেন, মহালয়ার বার্তা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সকলের জীবনে অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। আয়োজনের সুন্দর ও সার্থকতা কামনার পাশাপাশি তিনি সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়সহ অন্যরা।