গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ও গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৪০০ জনকে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বুধবার রাত ৮টা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল রয়েছে।
ফলে জেলায় এখন অনেকটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো।
এছাড়া গত রাতে বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ যায় এনসিপি। তবে এই কর্মসূচি ঘিরে গোপালগঞ্জ সদরে ওইদিন সকালে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। কাছাকাছি সময়ে হামলা করা হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি বহরেও। এ দুই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে জানায় গোপালগঞ্জ পুলিশ।
দুপুরে এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকরা। তারা মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে সরে যান।
আধঘণ্টা পর ওই সমাবেশ স্থলেই পুলিশি নিরপত্তায় সমাবেশ করে এনসিপি। সেখানে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের গাড়ি বহরে আবারো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বাড়তি জনবল নিয়োজিত করা হয়।
প্রথমে এনসিপির নেতাকর্মীরা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে সেনাবাহিনীর এপিসিতে করে খুলনায় নেয়া হয় তাদের।