ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে শনিবার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসছেন। আসন্ন সফরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেবে বাংলাদেশ। এই সফরের লক্ষ্য হলো যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা। এই সফরে দুই পক্ষের মধ্যে ৩টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব মো. আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্র সচিব মো. আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ২২ নভেম্বর সকালে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিংকে যথাযথ মর্যাদায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাবেন। বিমানবন্দরের গার্ড অব অনার গ্রহণ করার পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন। এরপর দুপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেরিং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন।
দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে আমরা আশা করছি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি, যুব, ক্রীড়া, শিল্পসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, ভুটানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা-বিষয়ক তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়গুলো এখনও আলোচনাধীন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ২২ নভেম্বর রাতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রতিনিধি দলের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হবে। সেখানে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। ২৩ নভেম্বর তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।