Published : Tuesday, 25 November, 2025 at 10:54 PM
শীত আর ক্ষুধায় কান্না করছে শিশু
আগুনে চারদিক হাহাকার। পাঁচ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি। এদিকে রাতে খাওয়ার সময়ও প্রায় শেষ হতে চলেছে। বড়রা কোনোরকম ক্ষুধা চেপে সহ্য করে গেলেও কাঁদছে অবুঝ শিশুরা। কিন্তু আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরে শুধু ছাই, নেই খাবার!
দম্পতি আজিজুর রহমান ও আঞ্জুমারা তিন বছর ধরে ভাড়া থাকেন রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে। সংসারে তাদের তিন শিশুসন্তানও রয়েছে। বড় ছেলে রাতুলের বয়স ১১ বছর মাত্র। অন্য দুইজন তার ছোট।
প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও (২৫ নভেম্বর) তারা সকালে কাজে বেরিয়ে যান। বিকেলে ঘরে ফেরার কিছুটা আগ মুহূর্তে খবর পান কড়াইল বস্তিতে আগুন লেগেছে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন তাদের তিন সন্তান আগুনের ভয়ে হাউমাউ করে কাঁদছে। কোন দিকে যাবে দিশা পাচ্ছে না। সবাই তখন নিজের জীবন নিয়ে নিরাপদ দূরত্বের দিকে ছুটছিলেন।
আগুনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে কড়াইল বস্তি এলাকা ছাড়েন আজিজুর রহমান ও আঞ্জুমারা। দৌড়ে কোনোর আশ্রয় নেন বনানী ১১ নম্বর রোডের সেতুর পশ্চিম পাশের ফুটপাতে। শিশুরা পেটে খিদে নিয়ে কাঁদছে তারা। কিন্তু বাবার পকেটে নেই কোনো টাকা। সন্তানদের কী খাওয়াবে তাই নিয়ে বিপত্তিতে দম্পতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বনানী ১১ নম্বর রোডে আরও শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই দু-তিনজন করে শিশুসন্তান রয়েছে। তাদের অনেকে পেটের ক্ষুধায় কান্না করছে। কিন্তু প্রাণ বাঁচিয়ে ফেরা অধিকাংশ অভিভাবকের পকেটে সন্তানকে খাবার কিনে দেওয়ার মতোও টাকা নেই। ফলে ক্ষুধার্ত সন্তানের মুখে তারা খাবার তুলে দিতে পারছেন না।
আগুন দেখে শুধু বাচ্চাগুলোরে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন বলে জানান আঞ্জুমারা। সঙ্গে আর কিছুই আনতে পারেননি। ঘরের মালামাল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কী খাবে, কোথায় থাকবে, কিছুই ভেবে পাচ্ছেনা রাস্তায় আশ্রয় নেওয়া লোকজন।
এছাড়াও গুলশান লেকের দুই পাশের রাস্তা ও ফুটপাতে আশ্রয় নিয়েছেন বহু পরিবার। তারা শুধু নিজরাই আশ্রয় নিয়েছেন, তবে কোনো মালামাল নিযে আসতে পারেননি। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে রেখে, যেসব ঘর এখনো অক্ষত আছে সেগুলো থেকে মালামাল বের করার চেষ্টা করছেন।
এদিকে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টার পরপর আগুন লাগে কড়াইল বস্তিতে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বস্তিতে আগুন জ্বলছিল। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
তবে আগুন বড় আকারে রূপ নেওয়ায় পানির অভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের। এরইমধ্যে ঘটনাস্থলে ভিড় নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বস্তির বাসিন্দাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনা না ঘটে। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।