Published : Tuesday, 8 September, 2026 at 12:52 PM
মিতালী এক্সপ্রেস, ছবিঃ সংগৃহীত
নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশের আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল ফের চালুর উদ্যোগ এবার আনুষ্ঠানিক আলোচনায় আসছে। কলকাতা-ঢাকা, কলকাতা-খুলনা ও নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা রুটের মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি ঢাকায় শুরু হওয়া দুই দিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে (আইজিআরএম) আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে। খবর এনডিটিভির।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় শুরু হচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের রেল কর্তৃপক্ষের দুই দিনের এই বৈঠক। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের রেল মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল, রেল অবকাঠামো, মালবাহী পরিবহন ও বিভিন্ন যৌথ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।
এবারের বৈঠকে ২০২৪ সালের পর প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচনা হবে। বৈঠকে সমঝোতা হলে কলকাতা ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে চলাচলকারী তিনটি ট্রেন আগামী মাস থেকেই ফের চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মৈত্রী এক্সপ্রেস কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক ট্রেন। এটিই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চালু হওয়া প্রথম আন্তঃদেশীয় ট্রেন। প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ট্রেনটির সময় লাগে প্রায় ৯ ঘণ্টা। গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
কলকাতা-খুলনা রুটে চলাচল করে বন্ধন এক্সপ্রেস। প্রায় ১৮০ কিলোমিটারের এ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ট্রেনটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
অন্যদিকে নিউ জলপাইগুড়ি ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে সপ্তাহে দুদিন চলাচল করে মিতালী এক্সপ্রেস। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে এ ট্রেনের যাত্রা উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে মিতালীর সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা। হালদিবাড়ী-চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে ট্রেনটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মিতালী এক্সপ্রেসের একটি রেক পাঁচ মাসেরও বেশি সময় বাংলাদেশে আটকে ছিল। ১৭ জুলাই নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা ট্রেনটি অস্থির পরিস্থিতির কারণে ভারতে ফিরতে পারেনি। পরে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভারতীয় রেলওয়ে তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। ডিসেম্বর মাসে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে চিলাহাটি-হালদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে মিতালীর রেকটি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিতে পারে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে।
দুই দেশের মধ্যে রেলপথে পণ্য পরিবহনের বিষয়টিও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডায় থাকছে। ভারতের ঋণে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি স্থবির রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হবে। এর মধ্যে ঢাকার কমলাপুর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত নতুন দুটি রেললাইন নির্মাণের প্রকল্পও রয়েছে।
বাংলাদেশের পুরোনো রেল কোচের বহর আধুনিকায়নেও ভারত সহযোগিতা করছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেক এরই মধ্যে উৎপাদন করে বের করা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করবে বাংলাদেশ। প্রায় ৯১৫ কোটি রুপির এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক। চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরোনো বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে