Published : Wednesday, 9 September, 2026 at 1:54 PM
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, ছবিঃ সংগৃহীত
বর্ষা বিদায়ের আগেই দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথম দিকে এডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর থেকেই সারা দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর সময়টাকে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী তিন মাস দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর কথা জানান তিনি। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এর আওতায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জনসচেতনতা তৈরি এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যক্রম চালানো হবে।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের মূল লক্ষ্য দুটি—আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে রাখা। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালে শয্যা, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট যাতে না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান রোগীর হার বিবেচনায় পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।
পিক সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে এসব হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে রোগীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে অযৌক্তিকভাবে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রাখারও আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।