Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম:
দেশের সব নাগরিকের আবাসন সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Published : Monday, 5 October, 2026 at 11:41 AM

প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান, ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান বলেছেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষসহ দেশের সব নাগরিকের আবাসন সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার তার সরকার। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সবার জন্য টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে শুধু একটি ঘর নয়, নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের শহর, বন্দর ও নগরাঞ্চলে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরেও স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শহরাঞ্চলে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে।

সকলের জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা দেওয়া সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তুলে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমাতে রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এর মাধ্যমে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপও শুরু করেছে।

তিনি বলেন, রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের বাইরে এসে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট, বিশেষ করে সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা শুধু সরকারের একার পক্ষে কিছুটা কঠিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান নিশ্চিত করতে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে।

‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’-এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করে এবং কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

দেশসংবাদ/এনএস


আপনার মতামত দিন
ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
Thursday, 1 October, 2026
ফেনীর পথে প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
Thursday, 1 October, 2026
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
ফাতেমা বেগম
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up