বিভিন্ন ধরনের সবজি ও শুটকি মাছ দিয়ে রান্না করা হয় পাজন
রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে চলছে পাজনের আয়োজন। চৈত্র মাসের শেষ দিনকে কেন্দ্র করে পাহাড়িদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে মূল বিজু পালিত হচ্ছে আজ।
এই দিনে ঘরে ঘরে তৈরি হয় বিভিন্ন পদের মুখরোচক খাবার। তবে বিজুর মূল আকর্ষণ পাজন। এটি বিভিন্ন ধরনের সবজি ও শুটকি মাছ দিয়ে রান্না করা হয়। পাজনের উপাদানে থাকে কাঠাল, কলা, মূলা, মিষ্টি কুমড়া, বেতডগা, তারা ও পাহাড়ের নানা লতা-পাতা।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এসব গুল্ম ও সবজি দিয়ে রান্না করা পাজন ওষধিগুণে ভরপুর। বিজুর দিনে সাতটি বাড়িতে পাজন খেলে সারা বছর কোনো রোগবালাই হয় না— এমন একটি মিথও প্রচলিত রয়েছে।
এছাড়াও বিজুর আয়োজনে থাকে নুডলস, পায়েশ, মিষ্টি, চটপটি, মাংস, রুটি, পোলাওসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার এবং তরমুজ, আপেল, কমলার মতো ফলমূল। পরিচিত-অপরিচিত যে কেউ এদিন যে কোনো বাড়িতে গেলেই আপ্যায়নে কমতি রাখেন না পাহাড়িরা।
এই উৎসবে অংশ নেন বাঙালিরাও। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রহণ করেন পাজনের স্বাদ, উপভোগ করেন সম্প্রীতির এই পরিবেশ।
ঘুরতে আসা রিংকু দে বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমরা ঘুরতে বের হয়েছি, পাজন খাচ্ছি। এছাড়াও বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তো আছেই।’
সানজিদা আক্তার বলেন, ‘আমি পাজনের খুব ভক্ত। এর স্বাদ মুখে বলে বোঝানো যাবে না, শুধু খেয়েই উপলব্ধি করতে হয়। প্রতি বছর বিজুর জন্য অপেক্ষা করি।’
লাবনী চাকমা বলেন, ‘বিজুর দিনে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। সবার বাড়িতে যাবো, পাজন খাবো, বাসায় ফিরবো রাতে। এভাবেই আমরা বিজু পালন করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাজন তরকারিতে সর্বনিম্ন ৩৫ প্রকার সবজি ব্যবহার হয়। আবার কেউ কেউ ১০০-১৫০ ধরনের সবজিও ব্যবহার করে থাকেন।’
শনিবার সকালে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা। আজ মূল বিজু, দিনভর চলে খাওয়া-দাওয়া আর আনন্দ-উৎসব। আগামীকাল পাহাড়িরা নববর্ষ পালন করবেন গইজ্যাপজ্জা বিজু হিসেবে, যার অর্থ ‘শুয়ে-বসে দিন কাটানো’।