দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি খুঁজতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার দল বিএনপি। গত শুক্রবার মো. শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ ব্যাপক আলোচনা চলছে৷ সরকার ও দলের ভেতর এই আলোচনা এখন তুঙ্গে। এ নিয়ে বিএনপি তাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে আগামী শনিবার৷ ওই বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্য কমিশনাররা।
বিএনপির নির্ভরশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দলের সিনিয়র একজন নেতা সোমবার সময়ের আলোকে বলেন, চেয়ারম্যান দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন ১ আগস্ট। গুলশানে শনিবার রাতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নিশ্চয়ই সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা ঠিক করা হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে তাদের মতামত তুলে ধরবেন।
এদিকে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের দপ্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সেই মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সিইসি ও অন্য কমিশনাররা সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে গত রোববার সিইসির কার্যালয়ে সব নির্বাচন কমিশনার ও জ্যেষ্ঠ সচিব বৈঠক করেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী কার্যক্রম ঠিক করতে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। এ জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা তথা সংসদ সদস্যদের নাম ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এর ভিত্তিতে ইসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা করবে। এরপর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসি ও কমিশনারদের বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হবে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ক্ষমতাবলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান আছে।
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা সময়ের আলোকে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর নির্ভর করছে। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই পদটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বের তীক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে এখানে দলের সবচেয়ে ত্যাগী ও যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করবে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে বেশ এগিয়ে। এছাড়া জোর আলোচনায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও।