বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারও উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ু মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) সর্বশেষ রিয়েল-টাইম তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে ঢাকার অবস্থান অষ্টম।
বর্তমান বায়ুর মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকায় শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
বিশ্ব বায়ু মানের লাইভ সূচক অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো। শহরটির বর্তমান বায়ুর মান সূচক (AQI) ১৭২, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা, যার একিউআই স্কোর ১৭০। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা, যেখানে বর্তমান একিউআই স্কোর ১৬০। এসব শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে বায়ুর মানে সাময়িক উন্নতি দেখা গেলেও শুষ্ক মৌসুম এবং ঋতু পরিবর্তনের সময়ে দূষণের মাত্রা আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাই নগরবাসীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
বায়ুদূষণের এই সংকট মোকাবিলায় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্মাণাধীন স্থানে নিয়মিত পানির ছিটানো বাধ্যতামূলক করা, ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী পুরোনো যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং নগরজুড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধি করলে ঢাকার বাতাসকে আরও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব। সচেতন নাগরিক সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই বায়ুদূষণের এই ভয়াবহতা থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।