Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম:
ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ ৭ নেতার রায় যেকোনো দিন
Published : Monday, 17 August, 2026 at 4:14 PM

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ছবিঃ সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। ফলে এখন যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করতে পারেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়।

এদিন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আইনি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। মামলায় উপস্থাপিত অডিও-ভিডিওতে এর প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর ফলে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়।

এর জবাবে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় শুট অ্যাট সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। 

তিনি বলেন, ‘তবে আমার মক্কেল তিনজন কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসেবলিটিতে একজনকেই আমি দায়ী করি। অতএব আমার মক্কেলরা কাউকে মারেননি বা মারার নির্দেশও দেননি।’

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান। তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলন দমনে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার মক্কেল সাদ্দাম হোসেন, ওয়ালি আসিফ ইনান, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নাম নেই। অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও নাকচ করেন তিনি।

নারীদের আহত হওয়ার বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘বারবার নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী আনা হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণেও এমন কিছু দেখাতে পারেনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।’

চার মক্কেলের খালাস চেয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তারা কিছু বক্তব্য দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ভিডিওতেও তাদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

পরে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন। আন্দোলন দমনের ঘটনায় একজন নিহত হলেও সংশ্লিষ্ট আসামিরা অপরাধের জন্য দায়ী হতে পারেন বলে যুক্তি দেন তিনি।

এর আগে ১২ আগস্ট সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক শেষ করে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হত্যা ও আহত করার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।

মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

গত ২ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

দেশসংবাদ/এনএস


আপনার মতামত দিন
ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রসিকিউশনের আপিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
Monday, 5 October, 2026
হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
Thursday, 24 September, 2026
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up