ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর ফের হামলা হলে আরও দ্রুত, শক্তিশালী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাজনিত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সংস্কার ও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে পরিস্থিতি আগের মতো নেই। এখন থেকে ইরানের স্বার্থ ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনো হামলার জবাব আরও দ্রুত ও বেদনাদায়ক হবে।
তিনি বলেন, সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি ইরানের বড় চ্যালেঞ্জ এখন উৎপাদন ও মানুষের জীবনযাত্রা। মুদ্রার দামে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে তিনি অর্থনীতির প্রধান সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন। জনগণ কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করতে পারলেও অব্যবস্থাপনা ও নিষ্ক্রিয়তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের জবাব সংস্কারের মাধ্যমে দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তার নীতি পরিবর্তন করবে— এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশের অর্থনীতি সংস্কারের দায়িত্ব ইরান সরকার ও জনগণের, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নয়।
ইরানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মোর্তেজা জামানিয়ান জানান, যুদ্ধের কারণে তৈরি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ সদর দপ্তর’ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার তারা ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, প্রণালির বাইরে একটি নতুন নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক এলাকা ঘোষণা করবে তেহরান। ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তেল রপ্তানিতে চাপের কারণে ইরানের অর্থনীতি ক্রমেই চাপে পড়ছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি এই অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলাও এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
এদিকে ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ দাবি করেছেন, গত কয়েক মাসে দেশটির প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে প্রায় ৫৫০ বার হামলা হয়েছে। তবে এসব হামলার পরও দ্বীপটির কার্যক্রম সচল রয়েছে বলে জানান তিনি।