Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম:
৫ ইরানি ট্যাংকারে বোমাবর্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের, জর্ডানে পাল্টা হামলা ইরানের
Published : Wednesday, 9 September, 2026 at 10:15 AM

ইরানি ট্যাংকারে বোমাবর্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের, ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানি ট্যাংকারে বোমাবর্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের, ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুই দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে এসব হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। জর্ডানের দাবি, এর মধ্যে ১৮টি ধ্বংস করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। এসব হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংঘাতের মধ্যেই কিছু সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে ওঠে।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা চালায়। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। এতে কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি বলেও জানানো হয়েছে।

এরপরই পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানায় সেন্টকম। হামলার শিকার ট্যাংকারগুলো হলো—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো। এগুলো ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল। এছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।

সেন্টকম জানিয়েছে, হামলার আগে এসব জাহাজের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। এরপর ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপের কাছে ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে জানিয়েছে তারা। হামলার পর জাহাজটির কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরআইবি।

এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের ‘বেশ কয়েকটি’ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে জর্ডানে থাকা আল-আজরাক ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার জন্য ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় জাহাজ দুটিতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে মার্কিন পক্ষের আলাদা কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। এসব জাহাজের কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা সব তেলবাহী ট্যাংকারের কর্মীদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যেতে সতর্ক করা হচ্ছে। জাহাজগুলো নোঙর করা অবস্থায় থাকুক কিংবা বন্দরে থাকুক—সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে ১৮টি সফলভাবে শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে।

জর্ডানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও ধাতব অংশ যেখানে পড়েছে, সেসব এলাকা নিরাপদ করতে বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে।

এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাবে তেহরান।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আবদোল্লাহি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হামলার আগে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাই ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে যেকোনো হামলার জবাবে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানে হামলা চালাবে বা হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের একটি করে তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

দেশসংবাদ/এনএস


আপনার মতামত দিন
সৌদিতে হুথিদের হামলায় নারী-শিশুসহ আহত ৭৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Tuesday, 8 September, 2026
হামলা হলে আরও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Monday, 7 September, 2026
ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ১০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Sunday, 6 September, 2026
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
ফাতেমা বেগম
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up