ইরান যুদ্ধ শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
Published : Tuesday, 8 September, 2026 at 8:07 PM
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা, ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও গোয়েন্দা স্থাপনার সংখ্যা কমানোর বিষয়ে নীরবে আলোচনা শুরু করেছেন মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। প্রায় দুই দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পর নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তুলনামূলক ছোট পরিসরের উপস্থিতির দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে বলে ছয়টি সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব আলোচনা এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরাসরি নির্দেশের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও সামরিক অবস্থান কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসন সফল হলে এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৯/১১-এর পর ব্যাপকভাবে বেড়েছিল মার্কিন উপস্থিতি
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় সামরিক অভিযান এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে স্থায়ী ঘাঁটি, গোয়েন্দা স্থাপনা ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলে।
কিন্তু ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত এসব স্থাপনার দুর্বলতা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ফলে যুদ্ধ শেষে এত বড় সামরিক অবকাঠামো একইভাবে ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকি—দুটিই নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এখনও মধ্যপ্রাচ্যে
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। পাশাপাশি রয়েছে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধজাহাজ। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনেরও বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলমান থাকায় এসব সামরিক সক্ষমতা এখনই সরিয়ে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে যুদ্ধ শেষ হলে কীভাবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাস করা যায়, তা নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া কিছু সিআইএ কর্মকর্তাকে আবার মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।
ঘাঁটি মাটির নিচে নেওয়ার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনাগুলো ভবিষ্যতেও থাকবে, সেগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এসব স্থাপনার ঝুঁকি কতটা বাড়িয়েছে, তা সাম্প্রতিক সংঘাতে স্পষ্ট হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি ভূগর্ভস্থ বা অধিক সুরক্ষিত স্থাপনায় রূপান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করে আসছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর পর এই পরিকল্পনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এসব স্থাপনার দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি সব পুনর্নির্মাণ নাও হতে পারে
ইরানের হামলায় যেসব মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, সেগুলোর সবগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং আলোচনার সঙ্গে পরিচিত আরও দুটি সূত্রের মতে, ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু স্থাপনা হয়তো আর পুনর্নির্মাণই করা হবে না। এ বিষয়ে পেন্টাগন এখনও স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস ‘জে’ হার্স্ট তৃতীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতে কত ব্যয় হবে, তা তখনও পরিষ্কার ছিল না।
তিনি বলেছিলেন, শুধু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ভবিষ্যতে কেমন হবে, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে। পরে হার্স্ট বলেন, বিদেশে মার্কিন স্থাপনাগুলোর মোট ক্ষয়ক্ষতির কোনও চূড়ান্ত হিসাব তখনও পাওয়া যায়নি। এসব স্থাপনা কীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে—অথবা আদৌ করা হবে কি না—তার ওপর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে সেনা কমাতে চায় পেন্টাগন
তিনটি সূত্রের মতে, পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পুরোপুরি সামরিকভাবে সরে যাবে না; বরং তুলনামূলক কম সেনা রেখে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ‘ফোর্স পোস্টার রিভিউ’ বা সামরিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং সামরিক বাহিনী ও সিআইএর বিভিন্ন অংশের কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত পরিবর্তনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনার ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রশ্ন তোলেন—এটি কি ভবিষ্যৎ কোনও নির্দেশের প্রস্তুতি, নাকি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সামনের সারিতে সেনা ও সরঞ্জাম রাখা হচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে আসার পুরোনো প্রতিশ্রুতি
মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর আলোচনা নতুন নয়। ৯/১১-এর পর প্রায় ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার অঞ্চলটি থেকে সামরিকভাবে সরে আসার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু প্রতিবারই নতুন কোনও সংকট, যুদ্ধ বা নিরাপত্তা হুমকি ওয়াশিংটনকে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে এনেছে। ১৯৯৮ সাল থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ হাজার সক্রিয় সেনা মোতায়েন ছিল। ৯/১১-এর পর আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ শুরু হলে সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ওঠানামা করলেও কখনওই প্রায় ১ লাখের নিচে নামেনি।
ওবামার প্রত্যাহার, পরে আবার ফেরা
২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান যুদ্ধের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘যুদ্ধের জোয়ার কমে আসছে’। তিনি সেখানে মোতায়েন করা অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
তবে আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে আরও এক দশক লেগে যায়। একই বছর ওবামা ইরাক থেকেও যুদ্ধরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করেন। কিন্তু পরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আবার ফিরিয়ে আনতে হয়। কারণ মার্কিন বাহিনীর শূন্যতার সুযোগে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে।
২০১১ সালের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমলেও তা সাধারণত ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে ছিল। একই সময়ে ইরান এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে ছিল। ইরাকে এসব গোষ্ঠীর হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাও নিহত হন।
ইরানের হামলায় বেড়েছে উদ্বেগ
বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা সেনা কমানোর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাত অবসানের জন্য কোনও সমঝোতা এখনও হয়নি। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সিআইএ’র একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইরানের হামলায় কার্যত ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। এছাড়া বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
স্থায়ী ঘাঁটির বদলে ‘মিশনভিত্তিক’ উপস্থিতি?
সিআইএ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী কমান্ডের কিছু কর্মকর্তা এখন প্রশ্ন তুলছেন—মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ঘাঁটি রেখেই কি সব ধরনের সংবেদনশীল অভিযান পরিচালনা করতে হবে?
বিকল্প হিসেবে এমন একটি ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় কর্মী ও সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রেই রাখা হবে। এরপর নির্দিষ্ট কোনও অভিযান বা মিশনের প্রয়োজন হলে সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে এবং কাজ শেষ হলে আবার দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এতে স্থায়ী ঘাঁটির সংখ্যা ও সেখানে থাকা জনবল কমানোর পাশাপাশি ইরানি হামলার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কীভাবে শেষ হয় এবং ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নীতি কীভাবে নির্ধারণ করে তার ওপর।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়িয়ে তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা সীমিত। এর পরিবর্তে ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে ইরানের সরকারকে চাপে ফেলা যায়।
কিন্তু এই কৌশল কতদিনে ফল দেবে, তার কোনও স্পষ্ট সময়সীমা নেই। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কয়েক মাসের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং খুব শিগগির আত্মসমর্পণ বা বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কিছু বড় ঘাঁটি থাকবে, তবে খরচ কে দেবে? পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ভবিষ্যতেও রাখা হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আরব দেশগুলো কতটা অর্থ দিতে প্রস্তুত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একটি সূত্রের মতে, বেশির ভাগ বড় মার্কিন সামরিক স্থাপনা যে দেশগুলোতে রয়েছে, সেসব দেশই মূল নির্মাণ ব্যয়ের বড় অংশ বহন করেছিল। ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণেও আয়োজক দেশগুলোর আর্থিক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাহরাইনে ফিরছে না মার্কিন নৌবাহিনী
স্বল্পমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনা ও ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের ‘শিগগিরই’ ফেরানো হচ্ছে না।
বাহরাইন ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কাউডল পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা ‘অদূর ভবিষ্যতে’ ফিরছেন না।
সব মিলিয়ে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নই তুলছে না; বরং ৯/১১-এর পর গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য কৌশলও নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে।
যুদ্ধ শেষ হলে ওয়াশিংটন কি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমাবে, নাকি নতুন কোনও সংকট আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে আরও গভীরভাবে টেনে নেবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। সূত্র: সিএনএন