Published : Saturday, 12 September, 2026 at 11:27 AM
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে হামলা, ছবিঃ সংগৃহীত
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর সেটি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটির কয়েকটি পাম্প স্টেশনে হামলা চালানো হলে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন আহত হন। হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পাইপলাইনটিতে একাধিক হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। নিরাপত্তার স্বার্থে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কাজ করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পাইপলাইনের পাশে থাকা পাম্প স্টেশনগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। উপগ্রহচিত্রে একটি পাম্প স্টেশনে আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া গেছে। আরেকটি স্টেশনের ছবিতে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেছে।
হামলাটি ইরাক থেকে আসা ড্রোনের মাধ্যমে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ইরাক থেকে আসা কয়েকটি ড্রোন রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন আহত এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করায় আপাতত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ইরাকের উদ্যোগকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
এদিকে ইরাক সরকারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে জরুরি তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাগদাদ। দেশটির সরকার বলেছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ইরান যুদ্ধ চলার মধ্যে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় এই হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কয়েক দিনের মধ্যেই সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে তেল পরিবহন নিয়ে আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবের জন্য ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগর দিয়ে ট্যাংকারে পাঠানোর পরিবর্তে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হচ্ছে।
তবে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিও এখন ঝুঁকির মুখে। হুতিরা এরই মধ্যে জানিয়েছে, বাব আল-মান্দাব দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচল করলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প এই পথও হুমকির মুখে পড়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, পাম্প স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামত করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। তবে পাইপলাইনের মূল অংশে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকলে মেরামতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুরোপুরি মেরামতে কত সময় লাগবে, তা স্পষ্ট নয়।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। একই সময়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, গত মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ব্যাপক কমে ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।