হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে একদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের স্বার্থে আখতারুজ্জামানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষ হওয়ার পরই রোববার তাকে আদালতে তোলা হলো।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে সকাল ৯টা ৮ মিনিটে উড়োজাহাজটি পার্কিং করা হয়।
যাত্রীরা বিমানবন্দরের ২১ নম্বর গেট দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশের পর ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এরপর লাগেজ সংগ্রহের জন্য তারা ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময় বিমানবন্দরে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয়। ট্রলি নিতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে লাগেজ আসতে দেরি হওয়া এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় অশোভন আচরণ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে আজ তাকে ফের আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ সময় তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন।