| শিরোনাম: |
|
ইউরোপের চার দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই ভিয়েতনামের, ছবি: সংগৃহীত
রোববার দেশটির রাজধানী হ্যানয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভিয়েতনাম ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার (ইএফটিএ) মধ্যে এ চুক্তি সই হয়।
ইএফটিএ’র সদস্য চারটি দেশ হলো— আইসল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। চুক্তির আওতায় শিল্পপণ্য, মাছ ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার অথবা কমানো হবে। ভিয়েতনামের সর্বোচ্চ নেতা তো লামের উপস্থিতিতে রাজধানী হ্যানয়ে চুক্তিটি সই করেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরা।
ভিয়েতনাম সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই চুক্তি।
সরকারের আশা, এর ফলে ভিয়েতনাম আমদানি ও রপ্তানির বাজার আরও বিস্তৃত করতে পারবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ও উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারবে।
২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর গত জুলাইয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। ২০১৮ সাল থেকে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা গত বছরের সেপ্টেম্বরে আবার শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক শুল্ক আরোপের উদ্যোগের পর এই চুক্তি সই হলো। ওয়াশিংটনের শুল্কনীতিতে বিশ্ববাণিজ্য ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের রপ্তানি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্কের বোঝা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির আলোচনা এখনও চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই চুক্তি বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহুমুখী করার এবং বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের অভিন্ন উদ্যোগের প্রতিফলন।
ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ে গবেষক দো দিন লাম খাং এএফপিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন ইউরোপের দেশগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করছে, তখন এই চুক্তি অর্থনৈতিক একীভবনকে আরও বেশি কৌশলগত স্বনির্ভরতায় রূপ দেওয়ার একটি যৌথ প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে বিকল্প বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।’
খাং আরও বলেন, ইএফটিএভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভিয়েতনামের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশটির উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রমে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ, শুধু সাধারণ পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির পরিবর্তে আরও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ও বেশি মূল্যসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, মেধাস্বত্বের অধিকার, বাণিজ্য প্রতিকার ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে উভয় পক্ষ।
ইএফটিএর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ভিয়েতনামের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৮০ কোটি ইউরো, যা প্রায় ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
গত বছর ইএফটিএভুক্ত দেশগুলো থেকে ভিয়েতনামে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি, মাছ এবং ওষুধজাত পণ্য।
অন্যদিকে, উৎপাদনশিল্পের অন্যতম কেন্দ্র ভিয়েতনাম থেকে ইএফটিএভুক্ত দেশগুলোতে প্রধানত যন্ত্রপাতি, জুতা ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে। ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের (ইইসি) বিকল্প হিসেবে ইএফটিএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইএফটি-এর চার সদস্যদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ হলেও তারা এর সদস্য নয়।
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ
|
আপনার মতামত দিন
|