Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম:
কিউবার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ৩৪তম বছরেও জাতিসংঘে নিন্দা
Published : Thursday, 29 October, 2026 at 9:31 PM, Update: 29.10.2026 9:36:37 PM

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, ছবি: সংগৃহীত

কিউবার ওপর কয়েক দশক ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বুধবার আবারও জোরালো অবস্থান নিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩০টি সদস্যরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং কিউবার জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানোর অভিযোগে ব্যাপকভাবে সমালোচিত এই নীতির কারণে ওয়াশিংটনের অব্যাহত কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে সিনহুয়া জানায়, প্রস্তাবটি ১৩০ ভোটে পাস হয়। এর বিপক্ষে ভোট দেয় ১৭টি দেশ এবং ভোটদানে বিরত থাকে ২৫টি দেশ। এতে ১৯৯৬ সালের মার্কিন হেলমস-বার্টন আইনের মতো আইন ও বিধিবিধানের অব্যাহত প্রণয়ন ও প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এ ধরনের আইনের বহির্দেশীয় প্রভাব অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, তাদের এখতিয়ারাধীন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বৈধ স্বার্থ এবং বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

প্রস্তাবে সব রাষ্ট্রকে এ ধরনের আইন ও পদক্ষেপ প্রণয়ন ও প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেসব রাষ্ট্র এ ধরনের আইন ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং এখনো প্রয়োগ করছে, সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব বাতিল বা অকার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী বিতর্কের পর বুধবার গৃহীত প্রস্তাবটি কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে টানা ৩৪তম প্রস্তাব।

মঙ্গলবার সাধারণ পরিষদের হলে বিতর্ক চলাকালে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বিরল ব্যতিক্রম হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি ও কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ মঞ্চে উঠে কিউবায় দুর্নীতির কথিত প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি দেখাতে শুরু করার পরপরই কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তাঁদের নির্ধারিত টেবিলে আঘাত করেন এবং কার্যপ্রণালিগত আপত্তি উত্থাপন করেন।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নিয়ে হলের মধ্য দিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে ওয়াল্টজ ও কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। রদ্রিগেজ ওয়াল্টজকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেন। অন্যদিকে ওয়াল্টজ কিউবার প্রতিনিধিদলকে সরে যেতে বলেন।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি কিছু সময়ের জন্য বিতর্ক স্থগিত করেন। পরে আবার কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দিনের বিতর্কে জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রই যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের বিরোধিতা করে এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।

আসিয়ান বা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি কিউবার ক্রমাবনতিশীল আর্থসামাজিক পরিস্থিতির ‘উদ্বেগজনক চিত্র’ তুলে ধরেন। তিনি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ঘাটতি এবং খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন।

জাতিসংঘ সনদ রক্ষায় বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর জোটের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরিত্রিয়ার প্রতিনিধি অবরোধ আরও কঠোর করার নিন্দা জানান। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের ‘সবচেয়ে গুরুতর, দীর্ঘস্থায়ী ও পদ্ধতিগত লঙ্ঘনগুলোর অন্যতম’ বলে অভিহিত করেন।

ইরিত্রিয়ার প্রতিনিধি বলেন, ‘কিউবার জনগণের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা চাপমুক্ত থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অধিকার রয়েছে।’

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে উগান্ডার প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ আরও কঠোর করাকে ‘সমষ্টিগত শাস্তির একটি রূপ’ বলে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতাল, স্কুল, পানি সরবরাহ এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না’—এমন একটি দেশের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

আফ্রিকান গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে নামিবিয়ার প্রতিনিধি আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি কিউবার ঐতিহাসিক সংহতির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্নে আফ্রিকার অবস্থান সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়েছে।’ এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, টানা ১৭তম বছরের মতো আফ্রিকান ইউনিয়ন অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জি-৭৭ ও চীনের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে উরুগুয়ের প্রতিনিধি তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে কিউবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব বিধিনিষেধ কিউবার টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে।

বুধবার ‘কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক খসড়া প্রস্তাব উত্থাপনকালে রদ্রিগেজ মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধিদলের ‘অশ্রদ্ধাপূর্ণ ও উসকানিমূলক আচরণের’ নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, ‘কিউবা কোনো হুমকি নয়। (মার্কিন) অবরোধই একটি হুমকি।’ কিউবার বিপ্লবের এক বছর পর, ১৯৬০ সালে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ১৯৬২ সালে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক অবরোধ কার্যকর করা হয়। ১৯৯৬ সালের মার্চে প্রণীত মার্কিন হেলমস-বার্টন আইনের মাধ্যমে কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর ওপরও অবরোধের আওতা সম্প্রসারিত হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।

দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ


আপনার মতামত দিন
আজ ৮১তম জাতিসংঘ দিবস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Saturday, 24 October, 2026
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up