| শিরোনাম: |
|
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু, ছবি: সংগৃহীত
ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্স গত সপ্তাহের শেষ সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গার মুখে পড়ে। আগামী ছয় মাস পর দেশটির ভোটাররা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনে ভোট দেবেন।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, বুধবার সকালে পাঁচটি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন লেকর্নু।
সেখানে বিক্ষোভ করার মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে। চিঠিতে বলা হয়, কেউ কেউ ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ মাধ্যমে বিক্ষোভকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির আয়োজন করছে। এ ছাড়া শ্রমিক সংগঠনগুলো আগামী ৫ নভেম্বর আরেকটি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। বুধবারের বৈঠকে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
গত সপ্তাহের শেষে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ ফ্রান্সে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে।
সংসদে ক্ষুব্ধ আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হয়ে লেকর্নু স্বীকার করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নতুন দফার বিক্ষোভের আগে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। লেকর্নু বলেন, ‘আগামী শনিবার বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হবে।’
ফরাসি কর্তৃপক্ষ সোমবার প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে আংশিক কারফিউ জারির ঘোষণা দেয়। প্রয়োজন হলে মঙ্গলবার নতুন করে কারফিউ জারি করা হবে বলে জানান লেকর্নু।
মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে প্যারিসে জারি করা রাতের কারফিউয়ের আওতায় ছিল শহরের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের রিপাবলিক স্কয়ার ও কেন্দ্রস্থলের লে আল শপিং এলাকা।
এ ছাড়া সরকারি ভবনগুলোর কাছাকাছি শঁজেলিজে সড়ক ও রেলস্টেশনগুলোতে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন ও দোকানে আগুন দেওয়ার পর প্যারিস পুলিশ সাময়িকভাবে পেট্রল বা গ্যাসভর্তি ক্যান ও বোতল বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
লিমুজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অতি-বামপন্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ভবনটি ধ্বংস হওয়ার ঘটনা সহিংসতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মেরিন ল্য পেন এ অস্থিরতাকে ‘সতর্কসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এ ঘটনা ‘গভীর সংকট’ তুলে ধরেছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটারদের পছন্দের তালিকায় ব্যবধানের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন ল্য পেন।
|
আপনার মতামত দিন
|