| শিরোনাম: |
|
সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন হুথিরা, ছবি: সংগৃহীত
তবে একই দিনে এক পৃথক বিবৃতিতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর খবর অস্বীকার করেন ইয়াহিয়া সারি। মদিনার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার যে দাবি সৌদি আরব করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে তিনি এটিকে ‘আমাদের জনগণ ও লড়াইরত সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি যোগ করেন, এই ধরনের অপপ্রচারের আসল সত্যতা এখন উন্মোচিত এবং তা মুসলিম বিশ্বের কাউকে আর বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনের জবাবে ইয়েমেনের ভেতরে থাকা সৌদি সামরিক অবস্থান এবং সৌদি আরবের ভেতরের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে। তবে মক্কা ও মদিনাকে যেকোনো ধরনের হামলার বাইরে রাখার বিষয়ে তারা বারবার তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের আটটি প্রদেশের সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো অন্তত ৯৩টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আল-জৌফ, তাইজ, সায়াদা, মারিব, হাজ্জাহ, লাহাজ, আমরান এবং ইব্ব প্রদেশে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন।
তিনি জানান, খামিস মুসাইত, তায়েফ, আল-খারজ এবং শারুরা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান দিয়ে এই হামলাগুলো চালানো হয়। বর্তমান উত্তেজনা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে সৌদি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মোট সংখ্যা ২,৭৯৩টিতে পৌঁছেছে।
সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’-এর প্রতিনিধি জানিয়েছে, ধুবাব জেলার আল-কাদাহা সৈকতের কাছে একটি মাছ ধরার নৌকায় সৌদি বিমান হামলায় আটজন জেলে নিহত হয়েছেন। প্রথম হামলার পর জীবিত বেঁচে যাওয়া জেলেরা যখন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ফিরে এসে তাদের ওপর দ্বিতীয়বার বোমা বর্ষণ করে তাদের হত্যা করে।
এর আগে ১৯ অক্টোবর হুথিদের সশস্ত্র বাহিনী ৪৮ ঘণ্টার এক সমন্বিত অভিযানের তথ্য প্রকাশ করে। এতে তারা সৌদি আরবের তেল ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ছয়টি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছেন বলে জানানো হয়।
অভিযানগুলোর মধ্যে ইয়ানবুতে অবস্থিত সৌদি আরামকোর ফ্যাসিলিটি, শায়বাহ তেলক্ষেত্র, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খামিস মুসাইত বিমানঘাঁটি, সামরিক রাডার এবং একটি নৌবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বাহিনীটির মুখপাত্র জানান, ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একঝাঁক ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলাগুলো চালানো হয়। আরামকো ও শায়বাহ তেলক্ষেত্রের হামলায় সরাসরি আঘাতের ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এছাড়া আবহা বিমানবন্দর ও খামিস মুসাইত ঘাঁটিতে হামলার ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ঘাঁটিটির মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অন্যদিকে বীর আসকরে অবস্থিত একটি কৌশলগত সামরিক রাডার হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেন হুথিরা।
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ
|
আপনার মতামত দিন
|