Published : Saturday, 31 October, 2026 at 10:52 AM
ছবিঃ সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা এনায়েতুল করিম। রাজধানীর উত্তরখান থানায় করা এ মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে তাকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) পিবিআই সদর দফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার মধ্যরাতে দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ। এ কারণে ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।
তাহসিফের মৃত্যুর আগের মুহূর্তের ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন দীপ। তার বক্তব্যে অসংগতি থাকায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও বেড়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পিবিআইয়ের একটি তদন্ত দল দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যায়। তুরাগ নদসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আশপাশে কী ঘটেছিল, তা জানতে সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটির কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না।
জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রাতের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন দীপ। তার দাবি, ওই রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে দুজন কথা বলার সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। ধাওয়াকারীদের মধ্যে দুজনের পরনে পুলিশের পোশাক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
দীপের ভাষ্য, ওই ব্যক্তিদের দেখে তাহসিফ দৌড় দেন। একপর্যায়ে তিনি তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। অন্যদিকে দীপ বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
তবে এর আগে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন দীপ। তিনি বলেছিলেন, তার ও তাহসিফের মোটরসাইকেল একই মডেলের। তাহসিফের মোটরসাইকেলটি অকেজো হয়ে পড়লে তিনি সেটি চালু করতে সহায়তা করেন। পরে দুজন একসঙ্গে উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান। সেখানে তাহসিফের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ আরও কিছু কাজ করানো হয়। এরপর তারা আবার অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ফিরে আসেন।
দীপ আরও বলেন, সেখান থেকে দুজন একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে তিনি নিজের বাসার উদ্দেশে চলে যান এবং তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান। তাহসিফ কোথায় বা কী কাজে গিয়েছিলেন, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানেন না বলেও দাবি করেন।
এদিকে শুক্রবার ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, দীপ অনেক এলোমেলো তথ্য দিচ্ছেন। তার দেওয়া সব তথ্য বিশ্বাস করা হচ্ছে না বা আমলে নেওয়া হচ্ছে না। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই-বাছাই ও নিশ্চিত হওয়ার পর গণমাধ্যমকে জানানো হবে।