মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ১৮ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা ভেঙে হাজারো মানুষ একযোগে সিউটায় ঢুকে পড়লে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও মানবিক সংকট।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বার্তা সংস্থা এপি জানায়, নিহতদের অনেকেই সাগরে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া মরক্কো-সিউটা সীমান্তের তারাজাল সৈকতের ব্রেকওয়াটার এলাকায় সীমান্তের বেড়া অতিক্রমের সময় পদদলিত হয়েও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতা রাশিদ সবিহি পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হাজারো অভিবাসী— যাদের মধ্যে অনেক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু রয়েছে— খোলা আকাশের নিচে পার্ক ও ফুটপাতে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকে উদ্দেশ্যহীনভাবে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
তার ভাষায়, ‘মানুষ এখনও সীমান্ত পেরিয়ে আসছে। যে অতিরিক্ত বাহিনী এসেছে, তারা মূলত আহতদের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তায় কাজ করছে। পুরো পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল।’
স্পেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরটিভিই সীমান্তের মরক্কো অংশে সংঘর্ষের পর কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগার দৃশ্য সম্প্রচার করেছে।
এদিকে পরিস্থিতি পরিদর্শনে শুক্রবার সিউটা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মূলত তরুণ পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিয়ে বহু পরিবার সীমান্তের ব্রেকওয়াটার পার হয়ে সিউটার সড়কে প্রবেশ করছে। আবার কেউ কেউ সিউটা থেকে মরক্কোতে ফেরার চেষ্টাও করছেন।
তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ কেন একসঙ্গে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো কারণ জানা যায়নি। মরক্কো সরকারও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে সিউটায় অভিবাসীদের প্রবেশের হার বেড়েছে। এর পেছনে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই রায়ে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও এই রায় স্থলপথে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিউটার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সীমান্তে সেনা মোতায়েন, অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যেই ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে এবং শত শত মানুষ রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন।
উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত স্পেনের ছোট এই ভূখণ্ড সিউটা দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রবেশদ্বার। উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো অভিবাসী প্রায়ই সাঁতরে কিংবা সীমান্তের উঁচু বেড়া টপকে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।