| শিরোনাম: |
রুনা লায়লার কনসার্ট
অথচ একই দিনে ও একই সময়ে রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউতে পাকিস্তানের আতিফ আসলামের একটি বাণিজ্যিক কনসার্ট ঘিরে এই নজিরবিহীন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ স্তরের একজন কিংবদন্তির প্রতি চরম ‘মর্যাদাহানি’ এবং দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি উদাসীনতা বলে অভিহিত করেছেন দেশের প্রবীণ ও জনপ্রিয় শিল্পীরা।
দেশের মাটিতে রুনা লায়লার প্রথম এই সরকারি আয়োজনের টিকিট বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ঠিক একই রাতে রাজধানীর ১০০ ফিট এলাকার মাদানী অ্যাভিনিউতে বিপুল বাজেটে অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের আতিফ আসলামের কনসার্ট।
এই ঘটনাটি নিয়ে প্রথম প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে শ্রোতানন্দিত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মনির খান সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন যে, একই দিনে বিদেশি শিল্পী এনে রুনা লায়লাকে অসম্মান করার কোনো দরকার ছিল না, এটি খুব দুঃখজনক ঘটনা এবং এতে তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে । তিনি আরও যোগ করেন যে, রুনা লায়লার প্রোগ্রাম হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে, সেই প্রোগ্রামকে সবার আগে সম্মান করার দরকার ছিল এবং বাংলাদেশে রুনা লায়লার বিকল্প দ্বিতীয় কেউ কখনো তৈরি হবে না।
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, আতিফ আসলামের কনসার্টের তারিখ পূর্বনির্ধারিত থাকলেও যখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় রুনা লায়লার কনসার্টের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছিল, তখন কর্পোরেট আয়োজকদের উচিত ছিল দেশের স্বার্থে এবং কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আতিফ আসলামের শো-এর তারিখটি পরিবর্তন করা। তা না করায় শ্রোতা ও সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা একজন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পীর জন্য অসম্মানজনক।
রুনা লায়লাকে অসম্মান করার এই বিতর্কের মাঝেই আতিফ আসলামের কনসার্টটি ঘিরে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টিকিট বিক্রি, ১১ হাজার টাকার ভিআইপি টিকিট কিনে সাধারণ জোনে প্রবেশ করতে বাধ্য হওয়া, এবং ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও জালিয়াতির কারণে হাজারো দর্শক চরম হয়রানির শিকার হন।
সব মিলিয়ে, দেশের কোটি মানুষের আবেগের প্রতীক রুনা লায়লার ঐতিহাসিক সংগীতের রাতকে কর্পোরেট বাণিজ্যের চাদরে ঢাকার এই অপচেষ্টাকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন একটি কালো অধ্যায় হিসেবেই বিবেচনা করছে ।
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এইচএন
|
আপনার মতামত দিন
|