| শিরোনাম: |
বনলতা এক্সপ্রেসে
যেখানে মানুষের অবাধ্য আবেগ আর নিঃশব্দ যন্ত্রণার মিশেল থাকে তাকেই নিপুণভাবে সেলুলয়েডে বন্দি করেছেন তানিম নূর পরিচালক ২০০৭ সালের নস্টালজিক প্রেক্ষাপটকে অক্ষুণ্ণ রেখে ভিজ্যুয়াল বয়ান তৈরি করেছেন যা দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ফেলে আসা দিনগুলোতে সিনেমার প্রাণ লুকিয়ে আছে একটি ট্রেনের যাত্রাপথে যেখানে সহযাত্রী হিসেবে চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিমকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই দুই শক্তিমান অভিনেতার দ্বৈরথ বা মিতালি এবারের ঈদের দর্শকদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে তাদের পাশাপাশি আজমেরী হক বাঁধন জাকিয়া বারী মম এবং শরীফুল রাজের উপস্থিতি প্রতিটি চরিত্রকে দিয়েছে আলাদা প্রাণ।
ট্রেনের কামরার শব্দ আর সম্পর্কের গভীর সমীকরণ নিয়ে নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শকদের নিয়ে যাচ্ছে এক ভিন্ন জগতের মুগ্ধতায় প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হওয়া দর্শকদের মতে নিটোল গল্পের শক্তি আর শক্তিশালী অভিনয়ের মিশেলে এটি কেবল একটি সিনেমা নয় বরং এক মানবিক অনুভূতির শৈল্পিক প্রতিফলন- আরও বলা যায় এটি এক নিটোল গল্প বলার বিজয়, যেখানে দর্শকরা তারকাখ্যাতির ঝলক নয় বরং চরিত্রের গভীরতা আর আবেগের সত্যিকারের শক্তিকে খুঁজে পেয়েছেন।
এই সিনেমা প্রমাণ করেছে যে ভালো গল্প, নিখুঁত অভিনয় আর সঠিক ভিজ্যুয়াল বয়ানই পারে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ফিরিয়ে আনতে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা যা নতুন প্রজন্মকে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যিক জাদুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে এবং পুরোনো দর্শকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে নস্টালজিয়ার ভুবনে। চঞ্চল চৌধুরী ও মোশাররফ করিমের অভিনয় যেন দুই ভিন্ন আবেগের সেতুবন্ধন, আর বাঁধন, মম ও রাজের উপস্থিতি গল্পকে দিয়েছে বহুমাত্রিকতা।
এই সিনেমা দেখিয়ে দিয়েছে যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এখনো সম্ভাবনা আছে, যদি নির্মাতারা সাহস করে গল্পকে কেন্দ্র করে কাজ করেন। দর্শকদের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করছে—মানুষ এখনো নিটোল গল্প, শক্তিশালী অভিনয় আর মানবিক আবেগের সিনেমার জন্য প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমাতে প্রস্তুত।
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এইচএম
|
আপনার মতামত দিন
|