| শিরোনাম: |
শোবিজ তারকা
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একুশে পদক ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারের মতো সম্মানজনক পদক রয়েছে, যা দীর্ঘ সাফল্যের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়। তবে বেসরকারি ও ভুঁইফোড় সংগঠনের আয়োজিত অধিকাংশ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান এখন প্রশ্নবিদ্ধ। অনেক সময় আয়োজক কমিটি নিজেরাই মনোনয়ন ঠিক করে, আবার স্পন্সরের প্রতিনিধি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কই পুরস্কার নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। অভিযোগ উঠেছে, অর্থ দিলেই পুরস্কার নিশ্চিত হয়। এমনকি অনেক সময় পুরস্কারপ্রাপ্তরা নিজেরাও জানেন না কোন কাজের জন্য সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
শোবিজ অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ নেই, এমন কথিত মডেল বা অভিনেত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ‘শ্রেষ্ঠ শিল্পী’র পুরস্কার। এসব অনুষ্ঠানে খোলামেলা পোশাক ও প্রদর্শনকেন্দ্রিক আয়োজন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। শিল্পীরা বলছেন, মানহীন এসব আয়োজন শুধু শিল্পীর সম্মান ক্ষুণ্ন করছে না, বরং দর্শকের আস্থাও নষ্ট করছে।
চিত্রনায়ক ওমর সানী বলেন, “এ সময়ের প্রায় ৮০ শতাংশ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বাণিজ্য চলছে। অনেকেই ৩০ থেকে ৫০ হাজার, কখনো ১ লাখ টাকা দিয়ে পুরস্কার নেন।” তিনি আরও জানান, তাকে একাধিকবার অফার করা হলেও তিনি যাননি।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, “তথাকথিত এসব অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান কেন করে, কারা করে, তা জানা নেই। সিনেমা হচ্ছে না, শিল্পীদের মাথা নষ্ট। সেখানে এত অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান! আমি আমাদের সমিতির শিল্পীদের সতর্ক করেছি, আপনি যে অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, তার মান আগে নিশ্চিত হতে হবে।” তিনি পোশাক-আশাক নিয়েও মন্তব্য করেন, “আমাদের কালচার অনুযায়ী কতটুকু কী করা উচিত তা জানা থাকা দরকার।”
অভিনেত্রী পূর্ণিমা জানান, তাকে প্রায়ই আমন্ত্রণ জানানো হয়, কিন্তু আয়োজকদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। “আমি জিজ্ঞেস করি, কেন অ্যাওয়ার্ড দেবেন? তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেন না। তাই যাই না।”
নাট্যাভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি বলেন, “আমাকে বলা হয় অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে হবে, তাহলেই অ্যাওয়ার্ড পাব। এটা আমার কাজের মূল্যায়ন নয়। তাই আমি এসব আয়োজনে খুব বেশি যাই না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। সাধারণ দর্শকরা প্রশ্ন তুলছেন—কারা দিচ্ছেন এসব পুরস্কার, কেন দিচ্ছেন, আর কাদের দিচ্ছেন। অনেকের মতে, প্রকৃত শিল্পীকে মূল্যায়ন করতে হলে পুরস্কার ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে হবে, বিচার প্রক্রিয়া প্রকাশ করতে হবে এবং নিয়মিত কাজের ভিত্তিতে সম্মাননা দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্যিক অ্যাওয়ার্ড সংস্কৃতি না থামলে শিল্পীরা প্রকৃত মানদণ্ডে মূল্যায়িত না হয়ে ‘পেইড আইকন’ হয়ে পড়বেন। এর জন্য প্রয়োজন পুরস্কার ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করা, বিচারিক প্রক্রিয়া প্রকাশ করা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা। অন্যথায় দেশের শোবিজে ‘অ্যাওয়ার্ড’ নয়, বরং ‘অ্যাওয়ার্ড মার্কেট’-এর কথাই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এইচএন
|
আপনার মতামত দিন
|