| শিরোনাম: |
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি), ছবি: আহমেদ আজম
১৯৫৭ সালে যাত্রা শুরু করা এফডিসি সর্বোচ্চ রাজস্ব দিয়েছিল ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে—১১ কোটি টাকার বেশি। এরপর থেকে রাজস্ব কমতে থাকে। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের ভর্তুকি ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল। গত এক দশকে অনুদান ও ঋণ বাবদ প্রায় ৮০ কোটি টাকা নিয়েছে এফডিসি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ধারাবাহিক লোকসানের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৪২ কোটি টাকার বেশি।
শুটিং ফ্লোর ও যন্ত্রপাতি এখন জরাজীর্ণ। ২০১৭ সালে আনা রেড ড্রাগন, রেড স্কারলেট ও সনি এফ-৫৫ ক্যামেরা সময়োপযোগী নয়। বর্তমানে সচল আছে মাত্র তিনটি ক্যামেরা। ডাবিং মেশিন, সাউন্ড মিক্সিং, এডিটিং সফটওয়্যার, ডিসিপি মেশিন—সবই নষ্ট বা অচল। ফলে নির্মাতারা বাইরে গিয়ে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ভাড়া করছেন।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে এফডিসি আয় করেছে ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা, ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে আয় কমে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, ব্যয় বেড়ে যায় ২৪ কোটি টাকার বেশি। ঘাটতি পূরণে সরকারের কাছে হাত পাততে হয়।
এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বলেন, গত ১৬ বছরে কোনো বিনিয়োগ হয়নি। আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি যুক্ত হলে এফডিসিকে আবারও লাভজনক জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি জানান, শুটিং স্পটের ভাড়া কমানো ও ই-টিকিটিং চালুর মাধ্যমে আয় কিছুটা বেড়েছে। আগস্ট মাসে আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।
চলচ্চিত্রকাররা অভিযোগ করছেন, ফ্লোরের ছাদ থেকে পানি পড়ে, এসি নষ্ট থাকে। আগে ছিল নয়টি শুটিং ফ্লোর, এখন আছে মাত্র পাঁচটি। এর মধ্যে একটি আবার বেসরকারি টিভি চ্যানেলের কাছে ভাড়া দেওয়া। তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো ছাড়া এফডিসি টিকে থাকা সম্ভব নয়।
সরকার এফডিসিকে লাভজনক করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল। এমনকি কর্মীদের একাংশকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে চলচ্চিত্রকারদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল করা হয়। সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ‘এফডিসিকে গবেষণাগার করতে হবে’ মন্তব্যও শিল্পীদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
এফডিসি এখন সীমাহীন অনিশ্চয়তায়। একদিকে অসমাপ্ত কমপ্লেক্স প্রকল্প, অন্যদিকে লোকসান আর প্রযুক্তিগত পশ্চাদপদতা। সাত দশক আগে যে প্রতিষ্ঠান দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে যাত্রা শুরু করেছিল, আজ সেটি টিকে থাকার লড়াই করছে। শিল্পীরা বলছেন, এফডিসিকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে আধুনিকায়ন, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃত চলচ্চিত্রকারদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ঢাকাই সিনেমার আঁতুরঘর হিসেবে পরিচিত এ প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে।
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এইচএন
|
আপনার মতামত দিন
|