ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার চালানো ‘ব্যাপক’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও এক ডজনের বেশি মানুষ।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রীষ্মের ছুটির পর মঙ্গলবার ইউক্রেনের শিশুদের স্কুলে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যেই সম্ভাব্য আরও রুশ হামলার আশঙ্কায় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কিয়েভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে বলেন, ‘কিয়েভ অঞ্চলে রাতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলাকারী ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে।’
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীতে থাকা এএফপি’র সাংবাদিকরা জানান, প্রায় এক ডজন বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনা গেছে। এ সময় আকাশে আলোর ঝলকানিও দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী কিয়েভের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আসার বিষয়ে সতর্ক করেছিল।
কিয়েভ শহরের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, রাজধানীতে হামলায় তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
কিয়েভের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত বরিসপিল এলাকায় হামলায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একজন নিহত ও একজন আহত হন বলে তাকাচেঙ্কো জানান।
এছাড়া একটি আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছে।
এর আগে, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী সতর্ক করে বলেছিল, ‘কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যালিস্টিক অস্ত্রসহ অন্যান্য ধরনের হামলার ঝুঁকি এখনো রয়েছে।’
একই সঙ্গে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের শিশুরা নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ফিরছে। এ কারণে কিয়েভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বড় ধরনের কোনো অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দিয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকাগুলো রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন হামলার চাপে রয়েছে। হামলায় জেট-চালিত ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এসব হামলার কারণে কোনো কোনো দিন রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় উপর্যুপরি হামলার সতর্কতা জারি হয়েছে।
সপ্তাহান্তে কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি গোলাবারুদের গুদামে রুশ হামলায় ৩৮ জন নিহত হন।
সাম্প্রতিক কয়েক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা আরও বাড়িয়েছে। এসব হামলায় গুদাম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, তেল ও বন্দর স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। হামলায় জাহাজও আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।
এদিকে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহৃত বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে রয়েছে ইউক্রেন।