Published : Wednesday, 9 September, 2026 at 3:49 PM
ইলিশ মাছ, ছবিঃ সংগৃহীত
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে ভারতের ব্যবসায়ীরা। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও ভারতীয় এই ব্যবসায়ী সংগঠনটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে।
ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। তবে এবার কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে মতামত দিতে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে।
বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইলিশ রপ্তানির আবেদনসংবলিত চিঠি পাওয়া গেছে। কী পরিমাণ ইলিশ রপ্তানি করা হবে, তা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনটির চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হতো। ২০১২ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এবার আগেভাগেই অনুমোদন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তাদের যুক্তি, সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অনুমতি দেওয়া হলেও আগে অনুমোদন পেলে ইলিশ আমদানি ও বাজারজাতকরণের প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
তবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছে, স্বল্প সময়ের জন্য সীমিত পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্যিক সুফল পাওয়া যায় না।
অনুমোদনের তুলনায় রপ্তানি কম
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতকে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রতিবছরই নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় রপ্তানি হয়েছে কম।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে ভারতকে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। ২০২০ সালে অনুমোদন দেওয়া হয় ১ হাজার ৮৫০ টনের; তবে পুরো পরিমাণ রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি।
২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে যায় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন।
২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪২০ টন অনুমোদন দেওয়া হলেও ভারতে যায় ৫৭৭ টন।
সর্বশেষ ২০২৫ সালে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতে রপ্তানি হয় মাত্র ১৫০ টন।