যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিসা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার আলজাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধিদলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগী কর্মকর্তারা থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান সরকারের মূল প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে পারবে। তবে এবার প্রতিনিধিদলের আকার সীমিত রাখা হবে।
এ ছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এসব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।
এবারের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট সমাধানের পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনা ফের শুরুর বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। প্রণালিটির কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে। তিনি তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রশাসনের সরাসরি আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন। তবে একই সময়ে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে হুতি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘ অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।