Published : Thursday, 22 October, 2026 at 12:56 PM
ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ চলছে, ছবিঃ সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে দাঙ্গা কিছুটা কমলেও বিভিন্ন দেশে এখনো চাপা উত্তেজনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করে আগামী শনিবারের পরিকল্পিত বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি সরকার। এদিকে শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা এবং লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে গ্রিস। শ্রেণিকক্ষের উন্নত পরিবেশ তৈরি এবং শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে গতকাল দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করে।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, ১৭ অক্টোবর প্যারিস, মার্সেই, লিওঁসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গোয়েন্দা ঘাটতি ও স্থবিরতা ছিল। তবে এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এদিকে অশান্তির কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছে ফরাসি পার্লামেন্ট।
কাতার সফর শেষে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে, তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। শান্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে যা যা প্রয়োজন, তার সবই করা হবে বলে জানান তিনি।
দাঙ্গা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর করা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন মাখোঁ। ওই দুই নেতা ফরাসি বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসন ও উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের দায় চাপিয়েছিলেন। এর জবাবে মাখোঁ বলেন, নিজ নিজ দেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরাসি সংকট নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে বিভ্রান্তিকর ও বোকামিভরা মন্তব্য করছেন বিদেশি নেতারা।
ফ্রান্সে চলমান এই বিক্ষোভে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ দেখছেন না বলে স্পষ্ট করেন মাখোঁ। তবে তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার পরে অনলাইন তথ্য বিকৃত করার কাজে বিদেশি শক্তি বা অপপ্রচার নেটওয়ার্কগুলো সক্রিয় ছিল।
ফ্রান্স ও ইতালির দাবি, ইউরোপজুড়ে দাঙ্গা উসকে দিতে টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিদেশি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো এটিকে এক ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, ফ্রান্স ও ইতালিতে ঘটা সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি কোনো সুনির্দিষ্ট প্ররোচনা বা কারসাজির চূড়ান্ত প্রমাণ এখনও তাদের কাছে নেই। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়েই মূলত এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো কারফিউ বলবৎ থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে। তবে শনিবারে ছাত্র সংগঠন ও পুনরুজ্জীবিত ইয়েলো ভেস্ট (হলুদ ভেস্ট) আন্দোলনকারীদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা থাকায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
ইউরোপজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ও কারফিউ ইউরোপজুড়ে দাঙ্গা কিছুটা কমলেও বিভিন্ন দেশে এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের প্রতিবাদে চলমান ছাত্র ও নাগরিক বিক্ষোভ সামাল দিতে ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কারফিউ এবং জরুরি রাজনৈতিক বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির জেরে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈঠক ডেকেছে ইতালীয় মন্ত্রিসভা। গত সপ্তাহের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত মিলান শহরে নিরাপত্তা জোরদার করতে ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ও ইতালির বিভিন্ন রুটে জ্বালানির উচ্চ মূল্যের প্রতিবাদে ট্রাকচালক ও কৃষকদের বিক্ষিপ্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।
বেলজিয়ামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মাঝেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বের্নার্দ ক্যানতাঁ শহরাঞ্চলের সহিংসতায় টিকটকের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, চরম-বামপন্থি নৈরাজ্যবাদী দলগুলো ব্রাসেলস ও লিয়েজের রাজপথে অস্থিরতা ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও ব্যবহার করছে।
আবাসন অধিকার রক্ষা ও অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়ার প্রতিবাদে পর্তুগালের লিসবন ও পোর্তোতে গড়ে ওঠা তাঁবু শিবিরগুলোতে মঙ্গলবার ভোররাতে কঠোর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বহু কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর দেশ দুটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে; মাদ্রিদ ও লিসবনের তৃণমূল নেটওয়ার্কগুলো সরকারি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে নতুন সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারি দুর্নীতি, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও অতিরিক্ত টিউশন ফির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ গতকালও অব্যাহত ছিল। আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ দাবি করেছেন।