Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম:
টেকনাফের পাহাড়ে ফের যৌথবাহিনীর অভিযান
Published : Saturday, 7 November, 2026 at 1:49 PM

যৌথবাহিনীর অভিযান পাহাড়ে, ছবিঃ সংগৃহীত

যৌথবাহিনীর অভিযান পাহাড়ে, ছবিঃ সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা ও বন্দিশালা নির্মূলে আবারও সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়ার পর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সেনা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অভিযান শুরু করেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা-রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অংশ নিচ্ছেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা।

এর আগে পাহাড়ের বন্দিশালা থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৭ জনকে শুক্রবার টেকনাফ মডেল থানার প্রাঙ্গণে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ছয়জন রোহিঙ্গা ও ৫১ জন বাংলাদেশি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান অভিযান ও তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রঙ্গীখালীর পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সেখানে মরদেহ রয়েছে কি না, কিংবা সেগুলোর পরিচয় কী, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের একজন শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। বন্দিশালার কাছাকাছি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। তবে মরদেহগুলো মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের, নাকি বন্দিদশা থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো ভুক্তভোগীর, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনায় উঠে এসেছে পাহাড়ের গোপন বন্দিশালায় মানবপাচারকারী চক্রের প্রতারণা, জিম্মি ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কক্সবাজারে ডেকে আনা হয়। পরে পাহাড়ের একটি গোপন আস্তানায় আটকে রাখা হয় তাকে। সেখানে টানা আট দিন বন্দি ছিলেন তিনি। এ সময় দুবার পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, ওই বন্দিশালায় ৫০ জনের বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। সশস্ত্র ব্যক্তিরা পাহাড়ি আস্তানাটি পাহারা দিতেন। বন্দিদের মুঠোফোনসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়ায় বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, টেকনাফের দুর্গম পাহাড় দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানা ও বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চাকরি কিংবা বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনকে এসব আস্তানায় এনে জিম্মি করা হয়। পরে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় কিংবা সাগরপথে পাচারের চেষ্টা চলে।

এদিকে পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর এবং সশস্ত্র অপরাধীদের তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানা নির্মূল ও পাহাড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

দেশসংবাদ/এনএস


আপনার মতামত দিন
টেকনাফের পাহাড়ে ফের যৌথবাহিনীর অভিযান
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
Saturday, 7 November, 2026
অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
Friday, 6 November, 2026
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up