Published : Saturday, 25 July, 2026 at 3:11 PM, Update: 25.07.2026 3:17:13 PM
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আজিজ, পিএসসি (অব:)
১। ১৯৯৪-৯৫ সালে আমি বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবসায় প্রবেশ করি, যা আমার পূর্ববর্তী পেশার সাথে (২৫ বছরেরও অধিক সময়ের ইউনিফর্ম সার্ভিসের অভিজ্ঞতা) ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ পর্যন্ত আমি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাইভেট সিকিউরিটি সেক্টরে রয়েছি। দেশের দুটি বৃহৎ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড এবং এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড (Elite Force) প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। এর মধ্যে, এলিট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড (Elite Force) বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি, যার কর্মীসংখ্যা ২৩,০০০ এরও বেশি, অধিকাংশই বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চল থেকে আগত। অনেক পুরাতন এবং অভিজ্ঞ প্রাক্তন সেনাসদস্যদের কর্মে যুক্ত করেছি। এভাবে আমরা একটি অতি জনবহুল ও বেকারত্ব-প্রবণ দেশে ১২ লক্ষ লোকের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছি।
২। আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, বাংলাদেশের বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আজ সারা দেশে ৮০০টিরও বেশি নিরাপত্তা কোম্পানি কাজ করছে। গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে দূতাবাস, হাইকমিশন, জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও, সব ধরণের শিল্প, পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-অ্যাপার্টমেন্টসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। এমন কোন ছোট-বড় প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে না যেখানে আমরা নেই। বিশেষ করে CIT, ATM ও Cash Management Service-এর কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাতে প্রতিদিন আমাদের ৫০০টিরও বেশি নগদ অর্থবাহী সাঁজোয়া ও বিশেষায়িত যানবাহনের মাধ্যমে আনুমানিক ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কোটি টাকা নিরাপদে পরিবহন করা হয়। একই সঙ্গে দেশের ২৫,০০০ এরও বেশি এটিএম বুথে প্রতিদিন নগদ অর্থ সরবরাহ ও পুনঃসংযোজন করা হয়। যদি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ থেকেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, তবে দেশের এটিএম ব্যবস্থা ও নগদ লেনদেন কার্যত অচল হয়ে পড়বে। এটি এমন এক বিশাল ও দুরূহ অপারেশন, যা সরকারি বাহিনীর পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি এবং প্রাপ্তি এই যে, আমরা ১২ লক্ষ লোকের বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি এবং অসহায় বেকার মানুষকে জীবিকা অর্জনের পথ দেখিয়েছি।
৩। উল্লেখযোগ্যভাবে, এলিট ফোর্স বর্তমানে ১০০টিরও বেশি বিদেশি ক্লায়েন্ট বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এর সাথে কাজ করছে যা আমাদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন একটি গার্মেন্টস হাব এবং সস্তা শ্রমশক্তির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, এলিট ফোর্স দক্ষতার সাথে বেশ কিছু বিশ্বখ্যাত ক্লায়েন্ট যেমন Google, Facebook, Pinkerton, Meta, Crisis-24, Netflix, CNN, IKEA, Siemens, Deloitte, Philips, PWC, Standard Chartered Bank, Citibank N/A, Woori Bank, Grameenphone, Telenor, Robi, Ever Care Hospital, icddr’b, British Council, VFS ইত্যাদির বিভিন্ন নিরাপত্তা সেবা প্রদান করছে। আমাদের উচ্চমানের সেবার কারণে বিদেশী গ্রাহকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক মানের সেবা চার্জ আদায় করতে পারছি। এবং গত কয়েক বছরে এলিট ফোর্স এককভাবে জাতীয় কোষাগারে ভাল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা রেমিট্যান্স হিসেবে জমা দিয়েছে। বেসিক গার্ড সার্ভিস ছাড়াও অন্যান্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় আমরা রাজস্ব আয়ের পরিধি বাড়াতে আমাদের সেবার ক্ষেত্রকে বহুমুখী করেছি। আমাদের সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে :
বিশাল এক যাত্রা: বেসরকারী নিরাপত্তা সেবায় আমার ৩০ বছর
৪। এলিট ফোর্স বাংলাদেশের প্রাইভেট সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিতে "State of the Art" মানের অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। আমাদের রয়েছে-
ক। বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত ৭ তলা বিশিষ্ট কর্পোরেট সদর দপ্তর, (Mini Pentagon of Bangladesh - বাংলাদেশের মিনি পেন্টাগন),
খ। দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বৈদেশিক কর্মসংস্থান কেন্দ্র,
গ। কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেন্টার,
ঘ। ২৪ ঘণ্টা সেবা কেন্দ্র,
ঙ। এসএমএস অ্যালার্ট সেন্টার,
চ। গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) সেন্টার,
ছ। ৪টি ইমার্জেন্সি রেসপন্স ইউনিট,
জ। K9 ডগ স্কোয়াড, যেখানে রয়েছে ৬০টিরও বেশি প্রশিক্ষিত কুকুর, এই K-9 Dog Squad এর সৃষ্টি আমাদের জন্য এক ভিষণ রকমের সাফল্য এনে দিয়েছে। প্রাইভেট সেক্টরে Dog Squad পৃথিবীতে কোথায় আছে বলে জানা যায়নি। আমাদের কুকুরগুলো খুবই প্রশিক্ষিত। এরা Sniffing, Searching, Guarding, Attacking, Patrolling , Games etc কাজে পারদর্শী।আমরা বিনা পারিশ্রমিককে Public এর জন্য অনেক Dog Show করি I আমাদের Dog Show দেখতে প্রচুর লোকের সমাগম হয়।
ঝ। নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র,
ঞ। Elite Force Multipurpose Complex-এলিট ফোর্স বহুমুখী কমপ্লেক্স ও
ট। Learning Centre - শিক্ষা কেন্দ্র।
বিশাল এক যাত্রা: বেসরকারী নিরাপত্তা সেবায় আমার ৩০ বছর
৫। আমাদের উপরোল্লিখিত অধিকাংশ স্থাপনা এক বা দুই তলা বিশিষ্ট (সেনা ব্যারাক ধাঁচের) - ২০ তলা ভবন নয়- যেখানে শারীরিক প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, শ্রেণিকক্ষ, বাসস্থান ও খাদ্যগ্রহণের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। এসবই আমাদের শিল্পে "Hallmarks of Excellence" হিসেবে স্বীকৃত। এখানে একটি বিষয় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ – যেমন এটা একটি বিশাল ত্যাগের গল্প বৈকি ? এই জমিগুলোর উপরে আমরা কমপক্ষে ২০-২৫টি টাওয়ার করতে পারতাম এবং শতশত কোটি টাকা উপার্জন করতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। উপরন্ত ভাল সাজতে গিয়ে বিপদে পড়েছি। সে এক মহা কাব্য।
৬। আমাদের এসব সুবিধাসমূহ পরিদর্শন করেছেন একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি - মন্ত্রী, প্রাক্তন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা - নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানগণ, বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীরা। আমরা অত্যন্ত গর্বের সাথে জানাচ্ছি যে, আমরা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে গানম্যান প্রদান করে আসছি। উনার অন্যান্য স্থাপনায় বর্তমানে আমাদের প্রায় ২০০+ গার্ড নিয়োগ দেয়া আছে। উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ আমাদের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনাগুলো স্বচক্ষে দেখার পর এভাবে বর্ণনা করেছেন- "Unique, Awesome, Amazing, Incredible, World Class, Outstanding এবং Unparalleled হিসেবে। এটি কোনো অতিরঞ্জন নয়।
৭। আলহামদুলিল্লাহ । আমরা বেসরকারী নিরাপত্তা সেবায় দেশে বিদেশে বিশালভাবে নিজেদের স্থান (জানান) করে নিয়েছি। দেশের ব্যাংকিং, টেলিকম, গার্মেন্টস, দুতাবাস ইত্যাদি জায়গায় আমাদেরই গার্ডকে সবচেয়ে বেশী দেখতে পাওয়া যায় । পৃথিবীর বড় বড় Search Engine, Social Media, AI Models যেমন Google; Safari, Yahoo Search, BING, Linkedin Search, ChatGpt, Gemini, Gork, Perplexity, Instagram Search, Facebook Search, Twitter / X Search, WhatsApp, Wikipedia etc search দিয়ে বাংলা দেশী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে সবার আগে Elite Force এর নাম দৃশ্যমান হয়।
বিশাল এক যাত্রা: বেসরকারী নিরাপত্তা সেবায় আমার ৩০ বছর
৮। এর মধ্যে ইদানিং আমরা এলিট ফোর্সকে একটি Charity Organisation বলে আখ্যা দিয়েছি। আমাদের বিরাট এক CSR কার্যক্রম চালু করেছি। আমরা বড় রকমের একটি Donation / Zakat Fund করেছি। যেটার মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকদিন ছোট পরিসরে দু:স্থ মানুষকে সাহায্য করছি। আমরা ১৫০-২০০ বাচ্চাকে প্রত্যেকদিন দুপুরে খাবার খাওয়াই এবং এদেরকে স্কুলে যেতে উৎসাহ দেই। আমরা একটি ইংরেজি শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করি। আমরা একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ৫০+ কম্পিউটারসহ একটি কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি এবং টিউশন ফি (অভিভাবক শিশু) দিয়ে সহায়তা করি। কলেজ / বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য আমাদের বৃত্তি কর্মসূচি রয়েছে - (গার্ডদের শিশুদের জন্য)। আমরা শত শত না হলেও অনেক অনেক স্কুল, মাদ্রাসাও এতিমখানা চালাই।
৯। আমরা বছরে ২/৩ বার রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে থাকি। আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য Medical Clinic পরিচালনা করি। প্রত্যেক বছরে ১০-১৫ হাজার কম্বল বিতরণ করে থাকি। আমরা একটি বৃদ্ধাশ্রমও পরিচালনা করি। আমরা গুলশান ও বারিধারা এলাকার স্থানীয় ৫টি মসজিদে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করি। আমরা নিয়মিতভাবে গেমস, ইভেন্ট (হার্ডশিপ চিলড্রেন ইত্যাদি) স্পনসর করি। আমরা আরো অনেক অনেক কিছূ করি, যা বলে শেষ করা যাবে না।
১০। বাংলাদেশে নিরাপত্তা কোম্পানিগুলো আরো শক্তিশালী হওয়ার জন্য সরকারের কাছ থেকে বড় রকমের সহায়তা প্রয়োজন। কর্মীদের উন্নত এবং Digital প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো সংস্থান আমাদের নেই বললেই চলে। দেশ, সমাজ ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশাল অবদান রাখা সত্ত্বেও বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা সামাজিকভাবে এখনো সম্মানিত নয়। তাই এই পরিষেবার প্রতি সাধারণ জনগনের আকর্ষণও কম। এর প্রধান কারণ এটি সাধারণত খুব কম বেতনের পেশা। একজন গার্ডের জন্য সরকারের ঘোষিত নূন্যতম বেতন মাত্র ৯,০০০/- (নয় হাজার) টাকা (যা মাসে হয় প্রায় ৬০ মার্কিন ডলার তুলনামূলকভাবে উন্নত দেশে একজন নিরাপত্তা কর্মী এক দিনে ৮ ঘন্টায় অন্তত ১৫০ থেকে ২৫০ মার্কিন ডলার উপার্জন করে। বাস্তবে বাংলাদেশে এই খাতটি অত্যন্ত নিম্ন আয়ের ব্যবসা। তাই গ্রামের একটি মেয়ে একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে বিয়ে করতে চায় না। কারণ সে জানে, ছেলেটি গরিব এবং সমাজের অন্যান্য পোসাকধারী পরিষেবার মতো তার কোনো মর্যাদা নেই।
১১। সত্যি বলতে, দেশের জন্য আমাদের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। গত জুলাই – আগষ্ট ২০২৪ মাসের আন্দোলনের সময় যখন দেশে পুলিশ ক্রিয়াশীল ছিলনা, প্রাইভেট সিকিউরিটি সার্ভিসেস কোম্পানী গুলো এক অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিল। ঐ সময় আমরা গুলশান / বনানী / বারিধারা / বসুন্ধরা / উত্তরায় প্রতি রাতে বিনামূল্যে গাড়িসহ ১০/১২টি নাইট টহল প্রদান করেছি। স্থানীয় ভাটারা থানা সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যাওয়ার পর আমরা তাদের অফিস এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সহায়তা করেছি। কোভিড-১৯ এ এই দরিদ্র নিরাপত্তাকর্মীরা অন্যান্য ফ্রন্টলাইন যোদ্ধার মতো অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। কিন্তু তাঁদের জন্য কোনো স্যালুট বা প্রণোদনা ছিল না। নিরাপত্তারক্ষীরা সত্যিই অবহেলিত রয়ে গেছেন। তবু বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা একটি ব্যবসা হিসেবে টিকে আছে। উন্নত বিশ্বে এটি একটি বিশাল বড় ব্যবসা। আশা করি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো উন্নত হবে এবং আমরা দেশ এবং জাতির জন্য আরো অনেক বড় অবদান রাখতে পারবো।
বিশাল এক যাত্রা: বেসরকারী নিরাপত্তা সেবায় আমার ৩০ বছর
১২। শেষের দিকে নিজেকে Highlight করার জন্য একটি জিনিস আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, আমি এই দেশের ৭/৮ জন রাষ্ট্রপতির সাথে এডিসি ও পিএস হিসেবে এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড Regt. এর CO হিসাবে অনেক বছর দায়িত্ব পালন করেছি। বড় পরিসরে দেশের কার্যক্রম সম্বন্ধে একটি ভাল ধারণা আমার ছিল এবং আছে। আমি পৃথিবীর প্রায় ৫০ টি দেশে ঘুরেছি। এ ছাড়া আমি মোটামুটি একজন ভাল অফিসার হিসাবে পরিচিত, পাকিস্তান আমলেও আমি কোর্স / ক্যাডারে উচ্চতর গ্রেডিং পেয়েছি। পরবর্তীতে বাংলাদেশে এসে প্রায় সব কোর্সে প্রথম শ্রেণীতে / প্রথম হয়েছি। প্রতিযোগিতায় শীর্ষে থাকার জন্য আমি এক বছরের জন্য বিদেশে Staff Course কোর্স করেছি। আমেরিকায় কোর্স করেছি। এই সবের জন্য আমি হয়ে উঠেছি একজন ‘চরম বাস্তববাদী” and ‘Uncompromising’ ব্যক্তি। কোন কিছুতেই আমি সহজে Convinced হইনা। সর্বাগ্রে বলি যে, আগে যতসব Negatives আছে – সেগুলো প্রথমে আলোচনা করুন। অবসরের পর প্রায় ২০/২৫ টি ব্যবসায় ‘ফেল’ করার পর শুধূ বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা সংক্রান্ত ব্যবসায় পাস করেছি। আমি নিজেই অবাক হই যখন দেখি আমরা প্রত্যক মাসে প্রায় ২০-২২ কোটি টাকা ২৩০০০ + গার্ডের বেতন প্রদান করি (যদিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে খুবই কষ্ট হয়।) Well done ! Brig Gen Sharif Aziz (Retd). I have no match ! সব কিছুর জন্য আল্লাহ্ তায়ালার অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি।
১৩। বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা একটি ব্যবসা হিসেবে টিকে আছে। উন্নত বিশ্বে এটি একটি বিশাল বড় ব্যবসা। আশা করি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো উন্নত হবে এবং আমরা দেশ এবং জাতির জন্য আরো অনেক বড় অবদান রাখতে পারবো।
১৪। শেষ কথা এবং অনুরোধ : বাংলাদেশে বেসরকারী নিরাপত্তা সেবার অগ্রপথিক (Pioneer) ছিলেন খুবই পেশাধারী এবং অমায়িক একজন এয়ার ফোর্সের অফিসার – যাঁর নাম ছিল Group Captain (Retd) Taher Quddus. উনাকে Father of Private Security Industry of Bangladesh বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। Almost 40 years back he replaced the age old concept of দারোয়ান / চৌকিদার and made system to Uniformed Guarding Services in the country. আমরা যারা এই সেক্টরে আছি, সরকারকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানাই তারা যেন এই মহান ব্যক্তিকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মানিত করেন।