| শিরোনাম: |
পটুয়াখালীতে দুটি কুকুরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের খেজুরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুটি কুকুরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে লাঠিপেটা করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা টি-শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি এবং লুঙ্গি পরিহিত আরেক ব্যক্তি দুটি কুকুরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন। তাদের দুজনের হাতেই লাঠি ছিল। এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে কুকুর দুটির মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন। এ সময় পাশে থাকা আরও একজন কুকুর দুটিকে মারধর করেন। কুকুর দুটি প্রাণ বাঁচাতে ছটফট করতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কুকুর দুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই কুকুর দুটির মালিক স্থানীয় চায়ের দোকানি জাহাঙ্গীর প্যাদা। কিছুদিন আগে একই এলাকার আবদুর রসিদ হাওলাদারের ছেলে মনজু হাওলাদারের ছয়টি হাঁসকে কিছু বেওয়ারিশ কুকুর আক্রমণ করে। পরে মনজু হাওলাদার জাহাঙ্গীর প্যাদার কুকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিন হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কুকুরের মালিক জাহাঙ্গীর প্যাদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কুকুর দুটি ধরে রশিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
কুকুরের মালিক জাহাঙ্গীর প্যাদা (৪০) বলেন, কুকুর দুইটা আমার পালা (পোষা) কুকুর। গত চার বছর ধরে পালি, ভ্যাক্সিনও করানো আছে যাতে কোনো মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি না করতে পারে। গতকাল সকালে নাকি মনজু হাওলাদারের হাঁস কামড়াইছে কোনো কুকুরে। কিন্তু সে সময় আমার কুকুর পাশের বাড়িতে ঘুমাইয়া আছিল। এরপর তারা আমার কাছে আইসা হাঁসের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ হাজার টাকা দাবি করে। আমার কাছে এত টাকা না থাকায় তা দিতে পারিনি। এরপর মিথ্যা অপবাদ দিয়া চোঁখের সামনে মনজু ও জহির আমার কুকুর দুটিকে রশিতে বাইন্ধা পিটাইয়া মারছে,আমি কিছু কইতে পারি নাই তাদের ভয়ে। তারা এখানে খুব পেশীশক্তি দেখায়।
তিনি আরও বলেন, আমার চোঁখের সামনে পোষা কুকুর দুটিকে তারা পিটাইয়া মারছে, খুব কষ্ট হইতেছে। বিচার চাইয়া লাভ হইবে কী বলেন? আমরা কি তাদের সাথে পারমু? তারা খুব শক্তিশালী আর আমি একা মানুষ।
এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনজু হাওলাদার (৩৫) খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকার রশিদ হাওলাদারের ছেলে এবং আরেক অভিযুক্ত জহির হাওলাদার (৩০) একই এলাকার নুর ইসলাম হাওলাদারের ছেলে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকারী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের খেজুরতলা এলাকায় প্রকাশ্যে দুটি বেওয়ারিশ কুকুরকে লাঠিপেটা করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তাই ভিডিওটি সংযুক্ত করে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবির হক বলেন, এভাবে কুকুর পিটিয়ে মারতে পারলে ভবিষ্যতে তারা বড় অপরাধও করতে পারবে। আমরা এদের বিচার চাই।
বাংলাদেশের প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯ এ বলা হয়েছে, প্রাণীকে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া, নির্যাতন করা বা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ৬ ধারায় প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিওসহ অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশ সংবাদ/এমএমএইচ/এইচএন
|
আপনার মতামত দিন
|