| শিরোনাম: |
|
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান, ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ কোনো সমস্যার সমাধান করবে না। বরং এতে উত্তেজনা ও সংঘাত আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব আশপাশের অঞ্চল ও বিশ্বের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও সর্বোচ্চ চাপ সমস্যার সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না। এগুলো কেবল উত্তেজনা ও সংঘাত আরও বাড়াবে এবং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
ইরানের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা নিয়ে লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের এই সহযোগিতা চলে আসছে। তাই এটি কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়। ইরান নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বেইজিং। নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার সকালে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরান থেকে তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন।
ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরান থেকে প্রায় ৩ দশমিক ৯ থেকে ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানি হয়ে থাকতে পারে। এর সিংহভাগই কিনেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন।
ইরানের সঙ্গে চীনের জ্বালানি সম্পর্কের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিও বেইজিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া ও বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথ বর্তমানে ইরান যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
এপ্রিল মাসে প্রকাশিত নোমুরার এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চীনের মোট আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২৩ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ফলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা শুধু তেহরানের অর্থনীতির ওপরই নয়, চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র : সিএনএন
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ
|
আপনার মতামত দিন
|