Published : Wednesday, 26 August, 2026 at 6:12 PM, Update: 26.08.2026 9:13:27 PM
তিব্বত থেকে হঠাৎ নেমে আসা বিপুল জল ও কাদার স্রোতে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, ছবি: সংগৃহীত
তিব্বত থেকে হঠাৎ নেমে আসা বিপুল জল ও কাদার স্রোতে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। দেশটির রাসুয়া জেলায় নদীতীরবর্তী প্রায় এক ডজন গ্রাম, বাজার, সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত–সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয় থেকে জানানো হয়, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় ৯৫ জনের মরদেহ
উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত–সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে।নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয় থেকে জানানো হয়, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় ৯৫ জনের মরদেহ
উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মুহূর্তেই তলিয়ে গেল জনপদ
বুধবার সকালে তিব্বত সীমান্তের দিক থেকে আচমকা বিপুল জলরাশি ঢুকে পড়ে ভোতেকোশি নদীতে। প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে নদীতীরবর্তী বসতি, বাজার, রাস্তা ও সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একের পর এক সেতু স্রোতের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়ে।
রাসুয়া জেলার স্যাব্রুবেশি ও তিমুরে বাজারসহ নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় পানির স্রোত। উত্তরগয়া গ্রামীণ পুরসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান চামেলি গুরুংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, স্যাফ্রুবেশি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সল্লেতার, শান্তিবাজার, পাইরেবেসি, খালতি বস্তি, সোলে, ত্রিশুলি ও বাত্তারসহ প্রায় এক ডজন গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রবল স্রোতে স্থানীয় একটি হেলিপ্যাডও ভেসে যাওয়ায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার সেখানে অবতরণ করতে পারেনি। ফলে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃষ্টি ছাড়াই এমন ভয়াবহ বন্যা কেন?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—বৃষ্টি না হওয়া সত্ত্বেও এমন ভয়াবহ বন্যা কীভাবে হলো? স্থানীয়দের দাবি, উত্তর নেপালে গত কয়েক দিনে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। এমনকি বুধবার সকালে রাসুয়া এলাকায় ছিল রোদ ঝলমলে আবহাওয়া। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নেপালের স্থানীয় অতিবৃষ্টির কারণে এই আকস্মিক বন্যা হয়নি।
স্যাটেলাইট তথ্যের বরাত দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক দিনে তিব্বতের দিকে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এর ফলে সেখানে কোনো বাঁধ বা জলাধার ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও কাদামাটি নেমে এসে ভোতেকোশি নদীতে ঢুকে পড়তে পারে। সেই স্রোতই আকস্মিকভাবে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করেছে বলে প্রাথমিক ধারণা। তবে কোনো হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে পানি নেমে এসেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত, অন্ধকারে পুরো জেলা
বন্যার স্রোতে চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ স্থানীয় বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুরোপুরি ভেসে গেছে। এতে রাসুয়া জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে। রাতের উদ্ধার অভিযান ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিম্নাঞ্চলেও বাড়ছে ঝুঁকি
বিপর্যয় শুধু রাসুয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। হড়পা বানের ফলে ভোতেকোশি নদীর পানি উপচে নিম্ন অববাহিকার ত্রিশূলি নদীর পানিও বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। এতে নুওয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ান জেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, ধাদিংয়ের গলছি এলাকাতেও নদীর পানি বেড়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বন্যার পানি মুগলিন অতিক্রম করতে পারে—এমন আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া পৃথ্বী হাইওয়ে এবং মুগলিন-নারায়ণঘাট সড়কে যাতায়াত এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে প্রশাসন।
জরুরি বৈঠক, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও নেপাল পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য জেলা থেকেও অতিরিক্ত সদস্য পাঠানো হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী কাজ করছে। চিকিৎসা দল, স্কাউট ও রেড ক্রসের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসাকর্মী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জরুরি হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনেও বাড়ছে ঝুঁকি
নেপালে বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও ভূমিধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। অতীতেও নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও হিমবাহ-হ্রদ বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ মুহূর্তে নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধান এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নেপাল সরকার। পাশাপাশি এই আকস্মিক বন্যার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণের কাজও চলছে। সূত্র: এই সময়