Published : Friday, 11 September, 2026 at 10:38 AM
বৃষ্টি ভেজা রাস্তা, ছবিঃ সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে বিশ্বের বড় বড় শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণও দিন দিন বাড়ছে। তবে বৃষ্টির কারণে দূষণের মাত্রা কখনো কখনো কিছুটা কম থাকে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার বায়ুর মান তুলনামূলকভাবে সহনীয় থাকলেও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) তথ্য অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় ১৮২ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং শহর। এ ছাড়া ১৭৩ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা, ১৬৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, ১৬৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি, ১৬০ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে আছে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর শহর কিনশাসা এবং ১৫৭ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর।
এদিকে ৭৯ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ২৩ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
কোন স্কোরে কেমন বায়ু
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান।
আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
যেসব দূষকের ওপর নির্ভর করে একিউআই
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা।
বায়ুদূষণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।