Published : Tuesday, 15 September, 2026 at 5:19 PM
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, ছবিঃ সংগৃহীত
ভারতে অবস্থানরত পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য আসামিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক আরও সহজ ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সব পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক বা ‘ওয়ার্কিং এনগেজমেন্ট’ জোরদারের স্বার্থে ভারত সরকারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত বলেও জানানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য আসামিদেরও ফেরত চাওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হলে ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের কেন চাওয়া হবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের স্বার্থে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কথিত বর্বরতা শুধু জুলাইয়ের ঘটনাকে ঘিরে সীমাবদ্ধ ছিল না; বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলেছে এবং এর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।
পলাতক আসামিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারা দেশের বাইরে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ও নসিহত দিচ্ছেন। এসব বক্তব্য বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে চরম আঘাত করছে। ভারত সরকার বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার বিষয়টি উপলব্ধি করে তাদের হস্তান্তর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী মাফিয়া শাসনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দলটিই এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অভিযুক্ত যে কেউ ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বার্থে আদালতের মুখোমুখি হতে পারেন, কারণ দেশের বিচারব্যবস্থা বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন ও সরকার সমন্বয়ের মাধ্যমে এ নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক হবে বলেও জানান তিনি। এ নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না।
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১০ হাজার কর্মীর বিনামূল্যে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক।
এ ছাড়া সরকারি অফিসে নাগরিকদের ‘স্যার’ সম্বোধন করাকে বাধ্যতামূলক না করে উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা
সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এসব যানবাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও যাতায়াত জড়িত। তাই সরকার একবারে অটোরিকশা বন্ধ করতে চায় না। তবে নিরাপত্তা ও নির্দিষ্ট রুটের আওতায় এগুলো পরিচালনার জন্য দ্রুত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।