Published : Wednesday, 16 September, 2026 at 12:22 PM
নতুন বেতন কাঠামো, ছবিঃ সংগৃহীত
বাতিল হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ প্রণোদনা। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে আর এই সুবিধা থাকছে না। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য চালু করা বিশেষ প্রণোদনা বাতিল করা হবে। ২০২৪ সালে চালু হওয়া এই প্রণোদনা প্রথমে মূল বেতনের ৫ শতাংশ এবং পরে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার কমানো হচ্ছে। বর্তমানে সব গ্রেডের চাকরিজীবী মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেলেও নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে এই হার নির্ধারণ করা হচ্ছে।
গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথ বাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬ অনুমোদন করা হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার ৫ শতাংশ থাকছে। গ্রেড-৫-এ তা হবে ৪ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ বেতনভোগী কর্মকর্তাদের মূল বেতন বেশি বাড়লেও প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম হবে।
সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেলে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। গ্রেড-২০-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।