সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের হামলা হয়েছে। এতে একজন পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আলজাজিরা ও ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য ডন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের বিমানবন্দরে দ্বিতীয় হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিমানবন্দরে বিমান হামলার খবর প্রকাশ করে হুতিপন্থি গণমাধ্যম। তবে ওই হামলার সঙ্গে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরি করতে সহায়তার প্রস্তাব দেন।
এর আগে শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
রোববার হুতিদের বিবৃতিতে শনিবারের হামলার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, যাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়। তবে এর আগে বৃহস্পতিবার একই বিমানবন্দরে পৃথক হামলার দায় স্বীকার করেছিল গোষ্ঠীটি।
অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক টমাস জুনো বলেছেন, ‘সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুতিদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে; কিন্তু সৌদি আরব এতটাই বিশাল যে, হুতি হামলার বিরুদ্ধে তাদের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের রক্ষা করা একেবারেই অসম্ভব।’
হুতি-বিরোধী জোট শনিবারের হামলাটিকে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়েছে এবং ‘কঠোরভাবে জবাব দেওয়ার’ অঙ্গীকার করেছে।
শনিবারের ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন ।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যার দেশের সাথে সৌদি আরবের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তিনিও এই ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার’ নিন্দা জানিয়েছেন ।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে দেওয়া সাতটি শর্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধের অবসানে তেহরানের দেওয়া সাতটি শর্তের কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের জবাব এখনো ইরানের প্রত্যাশা পূরণ করেনি।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় তৃতীয় একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পেয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।