সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় খোলপেটুয়া নদীর ভাঙা বাঁধ দিয়ে গত পাঁচ দিন ধরেই ওঠা-নামা করছে জেয়ার-ভাটার পানি। এতে বাড়ছে ভাঙনের পরিধি।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকালে ভাঙন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর পানি প্রবেশ বন্ধের জন্য রিং বাঁধের নির্মাণ কাজ চলছে। বেশিরভাগ অংশে বাঁধ দেয়া হয়েছে। আজ পুরো বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, জোয়ার ভাটার স্রোতে ভাঙন কবলিত এলাকার দৈর্ঘ্য বাড়ছে। ১৫০ মিটারের জায়গায় ২০০ মিটার দূর দিয়ে রিং বাঁধ দিত হচ্ছে।
গত সোমবার ঈদের দিন সকালে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে যায় সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল আশাশুনির বিছট বেড়িবাঁধ। প্লাবিত হয় গ্রামের পর গ্রাম। ভেসে যায় কয়েকশ মাছের ঘের। ভেঙে পড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তিনদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিং বাঁধের কাজ চলছে।
এলাকাবাসী জানান, বার বার বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা। বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে বাঁধের ওপর। অনেকে এই ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছে। তাই অস্থায়ী কিছু নয়, টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছেন পানিবন্দিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিছট বাঁধের আরও কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত সেখানে সংস্কার করা না গেলে আরেকটি ভাঙনের কবলে পড়তে হতে পারে নদীপাড়ের মানুষদের।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ‘আজ রিং বাঁধের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ভেঙে যাওয়া মূল বাঁধের ডিজাইন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা এলেই মেরামত করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়ও কাজের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।’
আর অনুমোদন হলে দু-এক বছরের মধ্যেই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কথা জানালেন এই প্রকৌশলী।