মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও টাঙ্গাইলের সন্তোষে নানা কর্মসূচি্র আয়োজন করা হয়েছে।
মওলানা ভাসানী ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এবং পরে তাকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়। আজকের দিনে তার পরিবার, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মুরিদান, ভক্ত, রাজনৈতিক দল, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তার আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
মওলানা ভাসানী ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রণী সংগ্রামী। তার জীবনযাপন ছিলো অত্যন্ত সাদাসিধে এবং তিনি সবসময় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিতেন। তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকার ও সমতা রক্ষায় সংগ্রাম করে গেছেন। দেশ ও জনগণের জন্য তার আত্মত্যাগ এবং প্রজ্ঞার কারণে তিনি বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আজকের দিনে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভোরে র্যালি এবং মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শুরু হবে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দিনব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। কয়েকদিন আগে থেকেই তার ভক্তরা সন্তোষে এসে উপস্থিত হয়েছেন।
এছাড়া, মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ‘ভাসানী মেলা’ চলমান, যেখানে লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করছেন। এই বিশেষ দিনটিতে সন্তোষ এলাকা হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য।
মওলানা ভাসানীর এই মৃত্যুবার্ষিকী শুধু তার ব্যক্তিগত অবদানকে সম্মান জানানোই নয়, বরং আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতির উন্নতির জন্য তার অবদানকে স্মরণ করার অন্যতম সুযোগ।