| শিরোনাম: |
মিন অং হ্লাইং, ছবি: সংগৃহীত
সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণউচ্ছেদে জড়িত থাকার অভিযোগে আগে থেকেই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা মিন অং হ্লাইং পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।
এপ্রিল মাসে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সামরিক প্রধানের পদ ছেড়ে দেন। তবে যে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় আসেন, তা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়, কারণ সেটি অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিস্তীর্ণ এলাকায় কোনো ভোটগ্রহণই হয়নি। ফলে সামরিক বাহিনীর সমর্থিত দল সহজেই নতুন পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
২০২১ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান-এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পাঁচ দফা ঐকমত্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় মিন অং হ্লাইংকে আসিয়ানের শীর্ষ বৈঠকগুলোতে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুর মনে করে, মিয়ানমারের মানবিক সংকট ও গৃহযুদ্ধ নিরসনে সামরিক সরকারকে আরও ছাড় দিতে হবে। এরপরই পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা উচিত।
অন্যদিকে থাইল্যান্ড ‘পরিমিত পুনঃসম্পৃক্ততা’ নীতি অনুসরণ করছে। দেশটির যুক্তি, মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের ২,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। তাই আন্তঃসীমান্ত অপরাধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মোকাবিলায় দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন।
চলতি সপ্তাহেই থাইল্যান্ড সফরে যান মিন অং হ্লাইং। সেখানে মিন অং হ্লাইংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছেন থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। এই সফরে থাই পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মিন অং হ্লাইং। এছাড়া তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে একটি থাই-মিয়ানমার ব্যবসায়িক ফোরামে সভাপতিত্ব করবেন। সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ধারায় ফেরার অপেক্ষায়।
তবে গণতান্ত্রিক দেশ এবং আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে মিন অং হ্লাইংকে এত উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। অধিকারভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার বলেছে, থাই সরকার ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সামরিক জান্তাকে ভুয়া বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে।
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ
|
আপনার মতামত দিন
|