বিবাহ কিংবা যেকোনো সামাজিক উৎসবে নারীদের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হলো স্বর্ণালংকার। বিশেষ করে বিয়ের ক্ষেত্রে কনের প্রধান অলংকার হিসেবে স্বর্ণ দেওয়ার ঐতিহ্য বহুদিনের। তবে অলংকারের এই বাজারে এবার স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর কিছুটা কমে আসায় ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৮০ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৬ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছিল। পরদিন বুধবার দাম কিছুটা কমে যায়।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ। সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যেতে পারে, কারণ এ ধাতু থেকে কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় পাওয়া যায় না।
ওভারসি-চাইনিজ ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেডের (ওসিবিসি) মূল্যবান ধাতু কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও ফিউচারস বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ধাতুটির দাম এখনো সমর্থন পাচ্ছে। তবে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী সংশোধনের ঝুঁকিও রয়েছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। শুক্রবার স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৮৫ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ ডলার হয়েছে। একই সময়ে প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮৪০ দশমিক ৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।