Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম:
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ‘বন্ধ’ হয়ে যাবে ইরানি এয়ারলাইনস: মার্কিন অর্থমন্ত্রী
Published : Monday, 21 September, 2026 at 8:44 PM

নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মুখে ইরানের বেসামরিক বিমান, ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মুখে ইরানের বেসামরিক বিমান, ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপের মুখে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তার দাবি, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়বে।

সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সব ইরানি এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে যাবে।’

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি বিমানবন্দরগুলো ইরানি উড়োজাহাজকে জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।

স্কট বেসেন্ট বলেন, কোনও ইরানি বিমান বিদেশের কোনও বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি বা অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া যাবে না। এমনকি ওই বিমান সংস্থার টিকিট বিক্রি করলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় ২৭ ইরানি এয়ারলাইনস

বেসেন্টের এই সতর্কবার্তার আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটন ওই পদক্ষেপে মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এর মধ্যে ইরানের ২৭টি এয়ারলাইনস রয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান সরকার দেশটির বিমান চলাচল খাত অস্ত্র, জনবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করে। একই সঙ্গে ইরানি বিমান সংস্থাগুলো কীভাবে বিদেশি মধ্যস্থতাকারী ও বিভিন্ন ফ্রন্ট কোম্পানির মাধ্যমে বিমান, যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংগ্রহ করে—সেটিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ২৭টি এয়ারলাইনসের মধ্যে রয়েছে- ইরান এয়ার ট্যুর, ইরান আসমান এয়ারলাইনস, কিশ এয়ার, কেশম এয়ার, সেপেহরান এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস, জাগরোস এয়ারলাইনস, ভ্যারেশ এয়ারলাইনসসহ আরও কয়েকটি সংস্থা।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও চাপ

নতুন মার্কিন নীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শুধু ইরানি এয়ারলাইনস নয়—তাদের সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চাপের মুখে ফেলা। স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও বিদেশি বিমানবন্দর বা কোম্পানি ইরানি বিমানকে জ্বালানি, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, অবতরণ-সেবা কিংবা টিকিট বিক্রির সুবিধা দিলে তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

এ ধরনের ব্যবস্থা ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে তৃতীয় দেশের কোম্পানিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

এর ফলে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ বিদেশি বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড সার্ভিস কোম্পানি, টিকিট বিক্রির এজেন্ট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক রুটে প্রভাব

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। ইরানের অন্যতম বড় বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা এবং ওমানের মাসকাটে ফ্লাইট বন্ধ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে তাদের কার্যক্রম সীমিত হওয়ার পেছনে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাড়তি চাপ গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

জর্জিয়াতেও ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানি বিমান সংস্থাগুলো সেখানে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চীনের সঙ্গেও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা

ইরানি বিমান চলাচল খাতে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করছে ওয়াশিংটন। চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে চীনা কর্মকর্তারা ‘খুবই সক্রিয়ভাবে’ যুক্ত রয়েছেন।

চীনের আর্থিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ইরানের বিমান খাতে বাড়ছে সংকট

দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিমান চলাচল খাত আগে থেকেই যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞায় বিদেশি সেবা ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সংকুচিত হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ইরানের সক্ষমতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে স্কট বেসেন্টের ‘২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সব ইরানি এয়ারলাইন বন্ধ’ মন্তব্যটি মূলত বিদেশি সেবা প্রদানকারীদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির প্রেক্ষাপটে দেওয়া। এর অর্থ প্রতিটি ইরানি এয়ারলাইনস দেশের অভ্যন্তরে একই দিনে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে—এমন নয়। বরং বিদেশে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, অবতরণ, গ্রাউন্ড সার্ভিস, টিকিট বিক্রি ও আর্থিক লেনদেন বাধাগ্রস্ত করাই ওয়াশিংটনের ঘোষিত চাপের মূল লক্ষ্য।

ফলে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের পর ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ কতটা সংকুচিত হয় এবং বিভিন্ন দেশ ও বিমানবন্দর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: ডন নিউজ

দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ


আপনার মতামত দিন
আলোচনায় বসতে তিন শর্ত ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Sunday, 20 September, 2026
গাজায় বাস্তুচ্যুতদের ভবন ধসে নিহত ১৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Wednesday, 16 September, 2026
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
ফাতেমা বেগম
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up