Published : Wednesday, 14 October, 2026 at 3:40 PM
টঙ্গীর কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, ছবিঃ সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকায় ‘ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা কিংবা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। পরে ধাপে ধাপে ইউনিট বাড়তে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি, উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন থেকে চারটি এবং কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশন থেকে চারটি ইউনিটসহ রাজেন্দ্রপুর এবং পূর্বাচল থেকেও কয়েকটি ইউনিট পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরিন জুনাইদ জানান, আজ সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী স্কুইভ রোড সংলগ্ন ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২ এর একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানায় প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ ও কেমিক্যাল মজুদ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের ভবনেও আঘাত হানে।
২০টি ইউনিটের ফাইটার ও সেনাবাহিনীর কেমিক্যাল ইউনিট, বিজিবির মেডিকেল টিম ও সদস্যসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সংবাদ পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। টঙ্গী, উত্তরা ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্টেশন থেকে একে একে মোট ২০টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণে অংশ নেয়। তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১টি ইউনিটসহ সর্বমোট ২১টি ইউনিট একযোগে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এছাড়া দ্রুত পানি সরবরাহের জন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন।
সুলতানুল আফরিন জুনাইদ আরও জানান, আগুনের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনা পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, এস আর বি, বিজিবি ও সেনাবাহিনী একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে।
সাড়ে ৩ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক নিশ্চিত করেছেন যে, আগুন এখন পুরো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি আর নতুন কোনো ভবনে ছড়ানোর সুযোগ নেই। তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুনের মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে।
এছাড়া মিরপুর থেকে একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডার (রাসায়নিক উপাদানজনিত দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়) আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত হয়।