Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম:
প্রযুক্তিগত সাফল্যে আবারও আলোচনায় মাস্ক
Published : Monday, 19 October, 2026 at 3:26 AM

ইলন মাস্ক ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: সংগৃহীত

ইলন মাস্ক ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছবি: সংগৃহীত

শূন্যে ডিগবাজি খাওয়া স্পোর্টস কারের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে আবারও সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন ইলন মাস্ক। তবে তার গভীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয়ে ফিরে আসার মানে হচ্ছে বিশ্বের এ শীর্ষ ধনী ব্যক্তি আগের বছরগুলোর মতো আর নিঃশর্ত প্রশংসা পাচ্ছেন না।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমবিষয়ক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু সেলেপাক বলেন, ‘১৯৫০-এর দশক থেকে মহাকাশ ভ্রমণ ও উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে আমাদের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তিনি সেগুলোই বাস্তবে করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অথচ আমরা তাঁকে সেই মনোযোগ দিচ্ছি না, সেই বিস্ময় প্রকাশ করছি না, যা সম্ভবত তাঁর প্রাপ্য।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাস্ককে যেন সবখানেই দেখা যাচ্ছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বিশাল স্টারশিপ রকেট প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছে ২৬টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন করে। পরে রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার মাস্কের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এই রকেটের জন্য ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

ভূরাজনীতিতেও মাস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে।

এমনকি একসময় টুইটার নামে পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিও নতুন করে জনপ্রিয়তা ফিরে পাচ্ছে। মাস্কের মালিকানাধীন এক্স এখন সিলিকন ভ্যালির অভ্যন্তরীণ মহলে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনার প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

তবে ধারাবাহিক সাফল্য সত্ত্বেও ডানপন্থি রাজনীতির প্রতি মাস্কের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকার তাঁর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাস্কের করাতযন্ত্র হাতে নাড়ানোর দৃশ্যের চেয়ে এ পরিবর্তনের প্রতীকী ছবি আর নেই। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই তাঁকে যন্ত্রটি উপহার দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে সরকারি দক্ষতাবিষয়ক দপ্তরের (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানোর উদ্যোগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল ওই করাত।

ডিওজিইর মাধ্যমে মাস্কের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় ছড়িয়ে পড়েন। তাঁদের উদ্যোগে ব্যাপক ব্যয়সংকোচন কার্যক্রম চালানো হয়, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) কার্যত ভেঙে পড়ে এবং সামগ্রিকভাবে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান হারানোর পেছনেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখে।

‘জাতীয় সম্পদ’

সরকারি ব্যয় কমানোর ওই আক্রমণাত্মক ভাবমূর্তির প্রতিফলন দেখা যায় এক্সে মাস্কের পোস্টগুলোতেও। সেখানে তাঁর কঠোর অভিবাসনবিরোধী অবস্থান ও ডানপন্থি ষড়যন্ত্রতত্ত্বের পাশাপাশি রকেট উৎক্ষেপণ এবং টেসলার রোবোট্যাক্সি নিয়ে পোস্টও থাকে।

২০২৫ সালের মে মাসে ডিওজিই থেকে সরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের নাটকীয় অবনতি ঘটে। তবে এখন তিনি আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুসম্পর্ক ফিরে পেয়েছেন।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাস্কের হাতে দেশের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান পদক তুলে দেন। এ সময় তাঁকে ‘জাতীয় সম্পদ’ এবং ‘আমাদের সময়ের টমাস এডিসন’ বলে অভিহিত করেন প্রেসিডেন্ট।

আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের রাজনৈতিক প্রচারে অন্তত ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন মাস্ক। নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করা হচ্ছে মাস্কের নিজ রাজ্য টেক্সাসে বড় ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারে। সেখানে জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী পিছিয়ে রয়েছেন।

বামঘেঁষা ভাষ্যকারদের কাছে মাস্ক এখন মানবকল্যাণে নিয়োজিত প্রযুক্তিপ্রতিভা হিসেবে নয়, বরং ট্রাম্প ও প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে ক্রমেই বেশি পরিচিত হয়ে উঠছেন।

অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত ‘মাস্ক’ নামের চার ঘণ্টার একটি প্রামাণ্যচিত্রে এ বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত ছবিটিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া এ ধনকুবেরের জীবন ও কর্মজীবন তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটিতে গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থিত মাস্কের প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক পডকাস্টার কারা সুইশারকে বলেন, ‘একসময় আমি তাঁকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করেছিলাম, যিনি পাহাড়ের কিনারা থেকে লাফিয়ে পড়ে নিচে নামতে নামতেই প্যারাস্যুট আবিষ্কার করতে পারেন। আমার মনে হয়, বিশৃঙ্খলার মধ্যেই তিনি নিজের শক্তি খুঁজে পান।’

তবে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই ধরে নিই, তাঁর আপাত উন্মাদনার পেছনে কোনো না কোনো পরিকল্পনা রয়েছে।’ তাঁর মতে, মাস্কের অনেক আলোচিত কর্মকাণ্ড আসলে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল কিংবা চোখের ধাঁধা হতে পারে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর মাস্কের মতো এতটা নির্ভরশীল উদ্যোক্তা খুব কমই আছেন। জুনে ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া স্পেসএক্স নাসা ও পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি থেকে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার আয় করে। অন্যদিকে, টেসলার রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কত দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে চালকবিহীন গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেয়, তার ওপর।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়কে রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিবর্তনের চেয়ে বিনিয়োগ হিসেবেই বেশি দেখা যেতে পারে।

দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ


আপনার মতামত দিন
প্রযুক্তিগত সাফল্যে আবারও আলোচনায় মাস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Monday, 19 October, 2026
আজ যেসব এলাকায় ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
Saturday, 1 August, 2026
এআইয়ের যুগে টাকার প্রয়োজন কমবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Monday, 27 July, 2026
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
এম. মোশাররফ হোসাইন
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up