Published : Sunday, 21 September, 2025 at 12:15 AM
সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের জোড়া ফিফটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার ফোরে শুভ সূচনা বাংলাদেশের
দারুণ জয়ে এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্ব শুরু করেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে টাইগাররা পেয়েছে শুভসূচনা। বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমানের নৈপুণ্যের পর ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়রা।
দুবাইয়ে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। শেখ মেহেদী হাসান ও শরিফুল ইসলামকে একাদশে নিতে বাদ দেওয়া হয় নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেনকে। লঙ্কান দুই ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস দলকে এনে দেন উড়ন্ত সূচনা। তখন কেউ কল্পনাও করেননি, ২০০ রানের নিচে থামবে লঙ্কানদের ইনিংস।
৫ম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৪৪ রানে নিসাঙ্কা বিদায় নিলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তার আগে ১৫ বলে ২২ রান করেন নিসাঙ্কা, তিনটি চারের সাথে হাঁকান একটি ছক্কা। আরেক ওপেনার কুশল ছিলেন আরও বিধ্বংসী। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ ব্যাট চালিয়ে বাংলাদেশকে সুপার ফোরে তুলতে সহায়তা করা এই ব্যাটার এবার একটি চার ও তিনটি ছক্কায় ২৫ বলে ৩৪ রান করেন।
শেখ মেহেদী হাসানের শিকার হয়ে দলীয় ৫৮ রানে তিনি বিদায় নিলে খেই হারায় লঙ্কানরা। এরপর একে একে উইকেট হারাতে থাকলে চাপে পড়ে যায় দলটি। তবে সেই চাপ দূর করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন দাসুন শানাকা। কামিল মিশারা ১১ বলে ৫ ও কুশল পেরেরা ১৬ বলে ১৬ রান করে বিদায় নিলে শানাকা সঙ্গী হিসেবে পান অধিনায়ক চারিথ আসালঙ্কাকে।
শানাকার কল্যাণে নাসুম আহমেদের করা ১৫তম ওভার ও তাসকিন আহমেদের করা ১৬তম ওভারে আসালঙ্কার কল্যাণে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। বিপর্যয় প্রতিরোধের পর রান রেট বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন দুজনে। তবে মুস্তাফিজুর রহমান এসে নিয়ন্ত্রণ করেন রানের ধারা। যদিও শেষদিকে ক্যাচ মিসের মহড়া দেখিয়ে আফসোস বাড়িয়েছে টাইগাররা।
১২ বলে ২১ রান করে আসালঙ্কা বিদায় নিলে শানাকা ৩৭ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। হাঁকান তিনটি চার ও ছয়টি ছক্কা। বাংলাদেশের পক্ষে মুস্তাফিজুর রহমান ২০ রানের খরচায় তিনটি উইকেট শিকার করেন। ২৫ রান নিয়ে জোড়া উইকেট পান মেহেদী। ২০ ওভারে লঙ্কানদের পুঁজি দাঁড়ায় ১৬৮।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে তানজিদ তামিমকে। তবে সাইফ হাসান আস্থার প্রতিদান দিয়ে চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন শুরু থেকেই। একপর্যায়ে তার সাথে যোগ দেন অধিনায়ক লিটন দাস। শ্রীলঙ্কার বোলারদের দুজনই খেলছিলেন বেশ সাবলীলভাবে।
'নানাবাড়ি' বা মায়ের দেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৫ বলে ৬১ রান করে ক্ষান্ত হন সাইফ, হাঁকান দুটি চার ও দ্বিগুণ ছক্কা। এরপর চড়াও হন তাওহীদ হৃদয়। ফর্মে ফিরে নিন্দুকদের জবাব দেওয়ার দিনে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখান হেসেখেলে। ৩৬ বলে সাইফের অর্ধশতক হয়, হৃদয় অর্ধশতক হাঁকান ৩১ বলে। জয় নিশ্চিত হওয়ার একটু আগে ৩৭ বলে ৫৮ রান করে থামেন চারটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকানো হৃদয়। জয়ের জন্য যখন ১ রান প্রয়োজন তখন জোড়া উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে ৪ উইকেটের জয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে টাইগাররা।