ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সরকারি বন্ডের সুদহারও বেড়েছে। তেহরান যুদ্ধের কৌশল আরও আক্রমণাত্মক করার ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ০৬ ডলারে উঠেছে। আগের দিন ইরান সংকটের কারণে তেলের দাম ২ ডলারের বেশি বেড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে চাপ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ০.৮ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৭২৮ শতাংশ হয়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহারও ০.৬ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৫ দশমিক ৩১৪৬ শতাংশে উঠেছে, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার ২ দশমিক ৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ২ দশমিক ৯৪৫ শতাংশ হয়েছে। এটি তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো। তবে এবার তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
এশিয়ার শেয়ারবাজারে অবশ্য মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে। জাপানের বাইরে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারের সূচক ০.৮ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০.৩ শতাংশ কমেছে।
এর আগে সোমবার ওয়াল স্ট্রিটেও বড় সূচকগুলোতে পতন দেখা যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৫ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট ০.৩ শতাংশ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রিতে অপ্রত্যাশিত পতনসহ দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে বাজারে ফেডারেল রিজার্ভের দ্রুত সুদহার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রত্যাশা কমেছে।
এদিকে ডলারের সূচক দুই মাসের সর্বনিম্ন ৯৯ দশমিক ৫২৭-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।
অন্যদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪২০ দশমিক ০৭ ডলারে উঠেছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে স্বর্ণের দাম।
ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিটকয়েনের দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে ৬৪ হাজার ৩৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে এবং ইথারের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯১১ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।