| শিরোনাম: |
পোশাক কারখানা, ছবি: সংগৃহীত
গত ২০ দিন ধরে চলমান এই গ্যাস সংকটকে ‘নজিরবিহীন’ কিংবা ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছেন শিল্পমালিকরা। তারা বলছেন, এবার তারা অপরিসীম ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারা, বাড়তি খরচ, এমনকি ভবিষ্যতের ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা।
সরকার রোববার জানিয়েছে যে দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের সমাধান ছয় মাস এক বছরে হবে না, কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, তার কোনো রাতারাতি সমাধান নেই। কিন্তু হাতের নাগালেই এমন কিছু উপায় রয়েছে, যেগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ করা অনেকটাই সম্ভব।
এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পরামর্শ, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো। বাংলাদেশে গ্যাস সংকট নতুন নয়। দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরেই কম। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ সক্ষমতা আছে দুই হাজার ৭০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তাহলে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি অন্তত এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট চাহিদার প্রায় ২৬ থেকে ২৯ শতাংশ। এই ঘাটতি নিশ্চিত করা হয় বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে।
বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিট গ্রুপ পরিচালিত এই টার্মিনালগুলোর মাধ্যমেই বিদেশ থেকে আনা এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন বা রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তবে গত ২১শে জুলাই আগুনে সেই এলএনজি টার্মিনালের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। থ্রি-হুইলারে অবৈধভাবে জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি কারখানাতেও অবৈধ ব্যবহারের নজির রয়েছে। কোনো কোনো কারখানা পাশের সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস কিনে এনে ব্যবহার করছে। বাসাবাড়িতেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে।
দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ
|
আপনার মতামত দিন
|