Desh Sangbad
Desh Sangbad
শিরোনাম:
যুক্তরাষ্ট্রে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ
Published : Tuesday, 29 September, 2026 at 10:44 PM

যুক্তরাষ্ট্রে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ছবি: আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ছবি: আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও ভূমিকার কারণে অনলাইনে ভারতীয়, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক বক্তব্য বা বিদ্বেষমূলক আচরণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—একটি নতুন প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এর পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ ও বক্তব্য, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা।

সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ)-এর বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

‘দ্য রাইজিং টাইড অব অ্যান্টি-সাউথ এশিয়ান হেট ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’—শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে প্রতিমাসে ঘৃণামূলক পোস্টের সংখ্যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যেখানে এমন পোস্টের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৯০৪টি, ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৮৪৩টিতে।

গবেষকরা শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়েই এক্সে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৪২ হাজারের বেশি ঘৃণামূলক পোস্ট শনাক্ত করেছেন। ওই সময়ের শেষের দিকে থাকা ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই এমন পোস্টের সংখ্যা ছিল পুরো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গবেষকেরা জাতিসংঘের নির্ধারিত ঘৃণাবাক্যের সংজ্ঞা ব্যবহার করেছেন। তারা অনলাইনে বারবার ব্যবহৃত দক্ষিণ এশিয়াবিরোধী গালিগালাজ ও বিভিন্ন বর্ণনাধর্মী প্রচারণা অনুসরণ করেছেন। এরপর প্রতিটি পোস্ট পর্যালোচনা করে এমন সমালোচনামূলক পোস্ট বাদ দিয়েছেন, যেগুলো জাতিসংঘের নির্ধারিত ঘৃণাবাক্যের মানদণ্ড পূরণ করে না।


এছাড়াও এক্সে থাকা ঘৃণামূলক পোস্টের প্রায় অর্ধেকেই দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ‘আক্রমণ’ বা ‘দখল’ করছে, চাকরি কেড়ে নিচ্ছে অথবা দেশের জনসংখ্যাগত কাঠামোর জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে জানায় গবেষকেরা।

দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে অবমাননাকর গালি ‘পাজিত’ এবং এর বিভিন্ন রূপ এক্সে থাকা ঘৃণামূলক পোস্টের ৩০ শতাংশে এবং বিকল্প বা প্রান্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে থাকা এমন পোস্টের ৪৫ শতাংশে দেখা গেছে। দক্ষিণ এশীয়দের নোংরা বা অপরিচ্ছন্ন হিসেবে তুলে ধরা পোস্ট এক্সে ১৭১ শতাংশ বেড়েছে। গবেষকেরা বলেছেন, সব ধরনের বর্ণনার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা বয়ান।

ঘৃণামূলক বক্তব্যে প্রায়ই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীকে একাকার করে ফেলা হয়েছে।
ভারতীয়, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের পরস্পরের সঙ্গে গুলিয়ে এক গোষ্ঠী হিসেবে দেখানো হয়েছে। একইভাবে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টানদেরও একটি অভিন্ন গোষ্ঠী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে গবেষকেরা মনে করেন, বর্তমানের এই উত্থানের পেছনে পুরনো বৈষম্যের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে।

প্রতিবেদনটিতে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিকে বড় একটি সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিতে পারেন। এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৭০ শতাংশের বেশি ভারতীয়। গবেষকেরা দক্ষিণ এশীয়বিরোধী ঘৃণার কয়েকটি বড় উত্থানের সঙ্গে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার অর্থপ্রদানের শর্ত আরোপের ঘটনা। এ ধরনের পদক্ষেপ একটি শক্তিশালী প্রতীকী ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এগুলো ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে থাকা শত্রুতাকেও আরো শক্তিশালী করে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য নিয়েও প্রতিবেদনটি একই ধরনের যুক্তি দিয়েছে। সেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি এআই সম্মেলনে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, তারা ভারতীয়দের কাছে চাকরি আউটসোর্স করছে। 

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ওই বক্তব্যের পর অনলাইনে দক্ষিণ এশীয়বিরোধী বক্তব্যে তীব্র বৃদ্ধি দেখা যায়। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি পোস্টের কথা উল্লেখ করেছে। যদিও পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হয়। পোস্টটির শিরোনাম ছিল ‘ট্রান্সফরমারস: এজ অব ডিপোর্টেশন’। সেখানে ‘মিস্টার সিং’ নামে একজন শিখ ব্যক্তিকে দেখিয়ে তাকে বলা হয়, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যাও।’

এর কয়েক দিন পর ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন ‘মেক কলেজ ফুটবল গ্রেট অ্যাগেইন’ নামে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। এর আগে টেক্সাসের রিপাবলিকান রাজনীতিক বো ফ্রেঞ্চ টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফুটবল খেলায় দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। প্রতিবেদনটির যুক্তি হলো, এ ধরনের বক্তব্য দক্ষিণ এশীয়দের এমন মানুষ হিসেবে দেখানোর ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে, যারা ‘এই দেশের মানুষ হিসেবে কখনোই সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

‘মডেল সংখ্যালঘু’ থেকে ‘চাকরি চোর’

গবেষকেরা লিখেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষোভও এই প্রবণতার আরেকটি কারণ। কিছু দক্ষিণ এশীয়ের সাফল্য ক্রমশ তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতীয়-আমেরিকানদের একসময় ‘মডেল সংখ্যালঘু’ হিসেবে যে ধারণায় দেখা হতো, এখন তাদের ‘সুযোগসন্ধানী ও প্রতারক’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। আরও বিস্তৃতভাবে, চাকরি ও অর্থনীতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভের জন্য দক্ষিণ এশীয়দের বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

এই পরিস্থিতি এমন একসময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি ও দৃশ্যমানতা ক্রমেই বাড়ছে। এর উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের স্ত্রী উষা ভ্যান্স এবং রাজনীতিক বিবেক রামাস্বামীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই বর্ণবাদী আক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, মামদানির দলীয় প্রার্থী হওয়ার নির্বাচনে জয় এবং পরে মেয়র নির্বাচনে জয়ের পর দক্ষিণ এশীয়বিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী অনলাইন আক্রমণে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়।

গবেষকেরা বলছেন, এই দুই প্রবণতা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ‘নিজেদের মর্যাদা বা অবস্থান হারানোর আশঙ্কার’ সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে। এর ফলে ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’ বা ‘মহা প্রতিস্থাপন তত্ত্ব’র মতো ষড়যন্ত্রতত্ত্বও শক্তিশালী হচ্ছে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশগুলোর শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে অন্য জনগোষ্ঠী দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এআইয়ের ভূমিকা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এসব বর্ণবাদী ধারণাকে আরো লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানিতে পরিণত করেছে। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, এক্সের কিছু অ্যাকাউন্ট দক্ষিণ এশীয়দের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করছে। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে যে তারা অন্যদের চাকরি কেড়ে নিয়েছে অথবা ভিসা জালিয়াতি করেছে। কিছু প্রভাবশালী অনলাইন ব্যক্তিত্ব আবার দক্ষিণ এশীয়দের বাড়ি ও কর্মস্থলে গিয়ে তাদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেই ঘটনাগুলোর ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ডানপন্থী অনলাইন প্রভাবশালী সারা গনজালেজের কথা বলা হয়েছে। তিনি পাঁচ লাখের বেশি অনুসারীর কাছে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওটিতে তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগে এক দক্ষিণ এশীয় ব্যক্তিকে হয়রানি করেন।

এদিকে, গবেষকেরা বলছেন, জেনারেটিভ এআই এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি করা আরো সহজ করে দিয়েছে। এআই ব্যবহার করে দক্ষিণ এশীয়দের এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন তারা ‘নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন, যৌনভাবে হিংস্র বা শিকারি মানসিকতার, সাংস্কৃতিকভাবে পশ্চাৎপদ অথবা জনসংখ্যাগত হুমকি।’ যদিও প্রতিবেদনটি মূলত অনলাইনে ঘটা ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড অনুসরণ করেছে, গবেষকেরা লিখেছেন যে অনলাইনের ঘৃণা ‘অফলাইনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।’

প্রতিবেদনটি জুলাই মাসের একটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। সেখানে উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলের এক ভারতীয় মুসলিম কর্মীকে বারবার ছুরিকাঘাত করা হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটররা ওই হামলাকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। চলতি সেপ্টেম্বরেও উয়োমিংয়ের একটি ট্রাক স্টপে এক শিখ ট্রাকচালককে ১৭ বার ছুরিকাঘাত করা হয়।

গবেষকেরা লিখেছেন, অনলাইন ও অফলাইনের ঘৃণা একে অপরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কারণ বয়ান, স্টেরিওটাইপ এবং কোনো গোষ্ঠীকে দানব বা অমানবিক হিসেবে উপস্থাপনের বিভিন্ন পদ্ধতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, রাজনৈতিক বক্তব্য, গণমাধ্যম এবং দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

দেশসংবাদ/এমএমএইচ/এফএইচ


আপনার মতামত দিন
কানাডায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Sunday, 27 September, 2026
ইরানের বিরুদ্ধে বড় সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Friday, 18 September, 2026
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর >>
https://deshsangbad.com/ad/1699508455_1491666999_th.jpg
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে আমরা
সম্পাদক
ফাতেমা বেগম
উপদেষ্টা সম্পাদক
ব্রি. জে. (অব.) আবদুস সবুর মিঞা
ঠিকানা
৮০/২ ভিআইপি রোড, কাকরাইল
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
Developed & Maintenance by i2soft
যোগাযোগ
ফোন: +৮৮ ০২ ৪৮৩১১১০১-২
মোবাইল: +৮৮ ০১৭১৩ ৬০১৭২৯
ইমেইল: info@deshsangbad.com
up